২৭ বছর পূর্তি এনসিসি ব্যাংকের

                                                                                                    বাংলাদেশের ব্যাংকিং জগতে এনসিসি ব্যাংকের নাম আজ সর্বজনবিদিত। একটি বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে ১৯৮৫ সালের ২৫ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করেছিল। প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য ছিল আমানত বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃহৎ আকারের ঋণ প্রদান ও মুদ্রাবাজারে ভূমিকা রাখা। দীর্ঘ আট বছর বিনিয়োগ কোম্পানি হিসেবে সাফল্যের সঙ্গে কর্মকাণ্ড পরিচালনার পর সেবার পরিধি আরো সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদয় অনুমোদন নিয়ে ১৯৯৩ সালের ১৭ মে প্রতিষ্ঠানটি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক নামে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে নব পর্যায়ে যাত্রা শুরু করে। তখন অনুমোদিত মূলধন ছিল ৭৫ কোটি টাকা এবং আর পরিশোধিত মূলধন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা, শাখা ছিল ১৬টি। কালের পরিক্রমায় বর্তমানে এনসিসি ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ২ হাজার কোটি টাকা। আর পরিশোধিত মূলধন ৯২৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। দেশব্যাপী ১২১টি পূর্ণাঙ্গ শাখা এবং তিনটি উপশাখায় সেবা বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২১টি এটিএম বুথ চালু রয়েছে, যা আগামী এক বছরের মধ্যে দ্বিগুণ করা হবে। নতুন এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি জমা দেয়ার সুবিধাও থাকবে।

২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং চিপ বেজড ভিসা ডেবিট কার্ড চালু করা হয়েছে। এছাড়া এনসিসি ব্যাংকের নিজস্ব ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নূরুন নেওয়াজ সেলিম।

তিনি বলেন, ফরেন কোর ব্যাংকিং সলিউশন সফটওয়্যার স্থাপনের মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংককে একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে, যা গ্রাহকসেবাকে আরো সমৃদ্ধ করবে।

এনসিসি ব্যাংকের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস বর্ণনা করে তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার সময়টি হিসাব করলে এনসিসি ব্যাংকের বয়স ৩৫ বছর। এ দীর্ঘ সময়ে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিটি ধাপে এনসিসি ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারী শিল্প, গার্মেন্ট, বিদ্যুৎ ও অবকাঠমো নির্মাণ থেকে শুরু করে প্রতিটি খাতেই এনসিসি ব্যাংকের বিনিয়োগ রয়েছে। এ দেশের অনেক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের জন্ম এনসিসি ব্যাংকের হাতে। সুশাসন, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে এনসিসি ব্যাংক এরই মধ্যে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা নিয়ে এনসিসি ব্যাংক এগিয়ে চলেছে এবং ভবিষতেও এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, এনসিসি ব্যাংকের সঙ্গে আমার পথচলা পাঁচ বছরের। এ পাঁচ বছরে এনসিসি ব্যাংক দ্বিগুণ সম্প্রসারিত হয়েছে। গত পাঁচ বছরে আমানত ৭৭ শতাংশ বেড়ে ২০ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা হয়েছে। বর্তমান ঋণ বিতরণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা, যা গত পাঁচ বছরে বেড়েছে ৭১ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে সম্পদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮৯ শতাংশ।

২০১৯ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য রেকর্ড ১৭ শতাংশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করা হয়েছে। ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) মূল্য দাঁড়িয়েছে ২০ টাকা ৮৮ পয়সা। গত পাঁচ বছরে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি ১১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৯ সালে এ ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ১০ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে এনসিসি ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ হাজার ৮২৭ কোটি টাকার রফতানি আয় দেশে এসেছে। পাঁচ বছরে এ ব্যাংকের রফতানি আয় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৯৮ শতাংশ। ২০১৯ সালে এনসিসি ব্যাংক ৪ হাজার ২৮৪ কোটি টাকার রেমিট্যান্স দেশে এনেছে। বিশ্বের ৩৩৩টি ব্যাংকের সঙ্গে এনসিসি ব্যাংক করেসপন্ডিং সম্পর্ক তৈরি করেছে। বিগত কয়েক বছরে ব্যাংকের প্রতিটি আর্থিক সূচক দ্বিগুণ হয়েছে কিন্তু খেলাপি ঋণ স্থিতিশীল রয়েছে। সম্পদের গুণগত মানে এনসিসি ব্যাংক অত্যন্ত সমৃদ্ধ।                                            

মোসলেহ্ উদ্দীন বলেন, ‘মুডিস’-এর রেটিং আছে, দেশে এমন বেসরকারি ব্যাংকের সংখ্যা মাত্র ৮টি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে মাত্র দুটি ব্যাংকের রেটিং অপরিবর্তিত ছিল। এনসিসি ব্যাংক তার মধ্যে একটি। ছয়টি ব্যাংকেরই রেটিং আগের বছরের চেয়ে খারাপ হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের রেটিংয়ে এনসিসি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদে ঋণমান এএ। আর স্বল্পমেয়াদে ঋণমান এসটি-১। সব মিলিয়ে রেটিংয়ের দিক থেকে এনসিসি ব্যাংক তার ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। —বিজ্ঞপ্তি


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

  • item-thumbnail

    ৩০০ রোগের সমাধান ১টি গাছেই

    Views 0Likes 0Rating 12345 সজনে গাছ সবার কাছেই খুব পরিচিত। সজনে ডাঁটা, পাতা ও ফুল সবই খাওয়ার উপযোগী। তাছাড়া সজনের আছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সজনের ...

ঘোষনাঃ