শাবির ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের জন্য ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে গত বছরের বাজেট তুলনায় এবছরের বাজেট ৭.১২ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের বাজেটে পরিমাণ ছিলো ১৩০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যা পরে সংশোধিত বাজেটের পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।

সোমবার (২৪ জুন) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের উপাচার্য সম্মেলন কক্ষে এ বাজেট ঘোষণা করেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, হিসাব পরিচালক আ ন ম জয়নাল আবেদিন প্রমুখ।

ঘোষিত বাজেট থেকে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের মোট ১৩৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার বাজেটের মধ্যে বেতন-ভাতা ও পেনশন খাতে ৮৬ কোটি ৪৮লাখ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা গত অর্থবছরে ছিল ৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা । পণ্য সরবরাহ ও সেবা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৩০ কোটি ৭৯ লক্ষ টাকা, যা গত বছরে ছিল ৩০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।

তার মধ্যে উলে­খযোগ্য বৃদ্ধি হলো, ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধিতে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ খাতে ১০ লক্ষ টাকা, সেমিনার ও কনফারেন্সে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে ৫০ লক্ষ টাকা, যা গত বছরে ছিল ৩০ লাখ টাকা, পরীক্ষা সংক্রান্ত ব্যয় ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধিতে ১২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ও মেরামত ও সংরক্ষণ খাতে ৬০ শতাংশ বৃদ্ধিতে ৩ কোটি ২১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরে ছিল ২ কেটি টাকা।

তবে এবছরে গবেষণা খাতে বাজেট ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এবছরের বাজেটে গবেষণায় অনুদান বরাদ্দ ৪কোটি টাকা, যা গত বছরে ছিল ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

এছাড়া বিশেষ ম‚লধন অনুদান খাতে ৩ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা গত বছরে ছিল ৩ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা। যেখানে কম্পিউটার সফটওয়্যার বাবদ ৪০০ শতাংশ বৃদ্ধি করে ৬০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ম‚লধন অনুদান বাবদ গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি করে ১৯ কোটি ৪ লক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যা গত বছরে ছিল ১৮কেটি ৯৮ লক্ষ টাকা।

তবে গত বছরের বাজেটে পেনশন বাবদ ৯ কোটি টাকা থাকলেও এবারের বাজেটে তা কমিয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রহরী খাতে প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ অর্থবছরের বাজেটে বিশেষ মঞ্জুরী পাওয়া গিয়েছে উলে­খ করে উপাচার্য বলেন, এবারের বাজেটে ডিজিটাল লাইব্রেরির জন্য ২০ লক্ষ, প্রকাশনা খাতে ৪০ লক্ষ, সেমিনার ও কনফারেন্সে ভ্রমণ ও আইএলটিএস বাবদ ৫০ লক্ষ, অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বাবদ ১০ লক্ষ, পরীক্ষার পারিতোষিক বাবদ ৭ কোটি ২৩ লক্ষ, কম্পিউটার ও অন্যান্য খাতে ৬০ লক্ষ, রেজাল্ট প্রসেসিং ও এ্যাটেনডেন্স সফটওয়্যার বাবদ ৪০ লক্ষ, শিক্ষা বৃত্তি খাতে ২০ লক্ষ (অতিরিক্ত সংযুক্ত), তথ্য ও যোগাযোগস প্রযুক্তি খাতে ২৫ লক্ষ, নন মেজর কোর্সের শিক্ষকের সম্মানী বাবদ ২৬ লক্ষ, বাস ও এ্যাম্বুলেন্স বাবদ ১ কোটি ৯৫ লক্ষ, যাত্রী ছাউনী, ডে-কেয়ার সেন্টার, প্রেস ক্লাব মেরামত, গোল চত্ত¡র মেরামত গ্যারেজ মেরামত ও ক্যাম্পাসে বসার ব্যবস্থাকরণ বিশেষ বরাদ্দ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

বাজেট ঘোষণা পরবর্তী শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ বছরের বাজেটে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের জন্য বিশেষ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গবেষণা খাতে বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে আরো বেশি বরাদ্দের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে বাজেটে সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে উলে­খ উপাচার্য বলেন, জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা শুরু হবে। এছাড়া বিভাগগুলোর প্রদত্ত বরাদ্দ আগামী নভেম্বরের মধ্যে ৬০ শতাংশ বাস্তবায়নের জন্য বলা হয়েছে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর আমাদের বাজেটের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওয়ায় বিরাট বাজেট পেতে যাচ্ছি। এসময় তিনি বাজেটে শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দের জন্য পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, এ বছরের বাজেটে মোট আবর্তক অনুদান বা মোট বাজেট ১৩৯ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন বরাদ্দ দিবে ১২৪ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা। এছাড়া বাকী টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আয় থেকে ১৫ কোটি টাকা বাজেটে সংযুক্ত করতে হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ