রুদ্র একজনই:মিনার মনসুর

আমি যার অতিথি মধ্যরাত অবধি সেই রেজা সেলিমের কক্ষটি তালাবদ্ধ থাকায় বিস্তর ঘোরাঘুরি করে শরণার্থী হিসেবে আমি আশ্রয় নিই কামাল চৌধুরীর কক্ষে। সেটি সম্ভবত ১৯৭৭ সালের শেষদিকের ঘটনা। তারা দুজনই তখন ফজলুল হক হলের বাসিন্দা। সেলিম থাকতো নিচতলার ১১০ নম্বর কক্ষে, আর কামাল ভাই তিনতলার ৩০৯তে। কামাল ভাইয়ের সম্ভবত পরদিন কোনো পরীক্ষা-টরীক্ষা ছিল। তাই আমি শুয়ে পড়ি। হঠাৎ দরোজায় তীব্র করাঘাতের শব্দে আমার ঘুম ভেঙে যায়। দেখি, দেবদূতের মতো সহাস্য বদনে রুদ্র ঢুকছেন আর মন্ত্রের মতো সুউচ্চ স্বরে ক্রমাগত আওড়ে চলেছেন, ‘আমি মুসলমান হয়ে যাবো’! কামাল ভাই তাকে পোষ মানাতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই শরিক হয়ে যান শেষ রাতের সেই ঝড়ো আড্ডায়। সেদিন, যদ্দুর মনে পড়ে, সেলিম আল দীনের নাটকের বিশেষ কোনো আয়োজন ছিল।
রুদ্রের সঙ্গে আমার শেষবার দেখা হয়েছিল অসীম সাহার ইত্যাদি প্রেসে। রুদ্রকে খুব বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিল। মাত্র কদিন আগেই ফিরেছেন হাসপাতাল থেকে। ভালো করে হাঁটতেও পারছিলেন না। আমি লালমাটিয়া যাওয়ার পথে রুদ্রকে কলাবাগান নামিয়ে দিই। সেই রিকশাভ্রমণই রুদ্রের সঙ্গে আমার সর্বশেষ ও সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতি। মূলত রুদ্রই কথা বলছিল, আমি ছিলাম নিবিষ্ট শ্রোতা। মনে হচ্ছিল, কয়েকটি আগ্নেয়গিরির সমান অভিমান জমে আছে তার বুকে। মনে পড়ছিল তারই কবিতার পঙক্তি: ‘এইটুকু জল গরল পানীয় পারে কি ভেজাতে/পৃথিবীর চেয়ে বড়ো পোড়া এক মরুভূমি’! সিগ্রেট নিষিদ্ধ ছিল তার জন্যে। কিন্তু একের পর এক সিগ্রেট পুড়ছিল তার বেদনাবিদ্ধ হাতে।                                                                                             
কী আশ্চর্য, রুদ্রের সঙ্গে আমার কোনো ছবি নেই! অবশ্য কে না জানে যে রুদ্র একজনই। তার জন্যে ছবি, স্বীকৃতি সবই বাহুল্য!
শুভ জন্মদিন, কবিতার যুবরাজ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ