মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এ অর্থবছরের সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ:ড. সায়েম আমীর ফয়সল

                                                                                                                                                                                                                                                                                                                  আলমুজাদ্দেদী ২৪ বিডি. কম: সংবাদ সম্মেলনে জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এ অর্থবছরের সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিবিদ ও জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়েম আমীর ফয়সল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকে এ অর্থবছরের সব চাইতে বড় চ্যালেঞ্জ বলে অভিহিত করেছেন। একই সাথে বাজেটের সফল বাস্তবায়নে সুষম বণ্টন ও গুণগত ব্যয় নিশ্চিত করার লক্ষে অর্থনৈতিক অঙ্গরাজ্য গঠনের প্রস্তাবও তিনি তুলে ধরেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে জাকের পার্টির বনানীস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জাকের পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব শামীম হায়দার, রাজনৈতিক উপদেষ্টা এজাজুর রসুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ড. সায়েম আমীর ফয়সল বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতির টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৫.৬%; যা আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে অবাস্তব। মূল্যষ্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ব্যাংকের প্রকৃত সুদের হার ৩% বৃদ্ধির আহবান জানান। ড. সায়েম দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে মজুতদারদের সিন্ডিকেট গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সঞ্চয়কারিগণ কোথায় সঞ্চয় করবেন? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে টাকার মূল্য প্রতি বছর কমে যাচ্ছে। ক্রয় ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ অবস্থায় ভূমি বা স্বর্ণে সাধারণ বিনিয়োগকারিকে বিনিয়োগ করার সুযোগ দানের পরামর্শ দেন। সংবাদ সম্মেলনে ড. সায়েম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী প্রতি জেলা গড়ে বরাদ্দ পায় প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ না করলে, জনসাধারণকে মুল অর্থনৈতিক ¯্রােতধারায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে না। এর সুফলও আসবে না। এজন্য জেলা পর্যায়ে সরকার প্রয়োজন। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে ডিসট্রিক্ট গভর্নর নিয়োগ করার প্রস্তাবনা দিয়েছিলেন, যাতে প্রবৃদ্ধির সুফল তৃণমূলে পৌঁছায়। তিনি আরো বলেন, আমাদের মাথা পিছু আয় ২৮০০ মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রতি মাসে আয় ২২,৪০০ টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে এ আয় কতজন মানুষ পাচ্ছে? গড় হার সব সময়ই সঠিক চিত্রকে ধারণ করে না। ড. সায়েম বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ৩৩,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি জেলায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি টাকা। এত বিপুল অংকের বরাদ্দের পরেও তার কি কাজ হয়েছে? ৫০০ কোটি টাকায় একটি জেলায় অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণসহ অনেক কিছুই করা যায়। ড. সায়েম আমীর ফয়সল দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, প্রাইভেট বিশ^বিদ্যালয়ে গবেষণায় কোন গুরুত্ব নেই। অগ্রগতি অব্যাহত রাখতে হলে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে তিনি গবেষণার ক্ষেত্রে জিডিপির ৩% থেকে ৫% বিনিয়োগ হওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ায় যা ৪.৬%, ইসরায়েলে ৪.৯%। অথচ বাংলাদেশে তা ০.২%। তিনি বলেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার অভাবে ক্ষেত্রবিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ সনদপ্রাপ্ত বেকার কেন্দ্র। শিক্ষিত বেকারত্বের হার প্রায় ৪২%। কাজেই কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান কৃষিকে সিন্ডিকেটমুক্ত খাত তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খাদ্য সংকট যাতে আমাদের বাস্তবতায় না ঘটে সে লক্ষ্যে ব্যাপক কাজ করতে হবে। খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিতে ২ বছরের খাদ্য মওজুদ করারও আহ্বান জানান। তিনি কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভর্তুকি প্রদান নিশ্চিত করারও পরামর্শ দেন। ড. সায়েম আমীর ফয়সল ভুমি সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ জমি সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমার হয়রানির শিকার হচ্ছে। এর অবসানে ব্লকচেইন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও দলিল সংরক্ষণ ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে হবে। জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সার্বজনীন পেনশন ফান্ডকে সাধুবাদ জানান। নরওয়েজিয়ান পেনশন ফান্ড কিভাবে আন্তর্জাতিক ইকুইটি মার্কেটে বিনিয়োগ করে এর সুফল পাচ্ছে, তার উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশের পেনশন ফান্ডের মাধ্যমে তা কি করা যায় না? ড. সায়েম আমীর ফয়সল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বাজার সম্প্রসারণে অ্যাপ এর মাধ্যমে ট্রেডিং এর সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের পুঁজি বাজারে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হবে। পুঁজিবাজারে লিস্টিংয়ের সহজীকরণ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে জাকের পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ্মা সেতুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে জাকের পার্টির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গকে মূলধারা অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত করায় আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে আরো ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ