ভালবাসার ফেরিওয়ালা পর্ব ১ :সৈয়দ নুরুল ইসলাম

প্রিয়রন্জন বসু।
বিভূতি রন্জন বসু ও প্রমিলা বসুর ১১ ছেলে মেয়ের ৫ম সন্তান,৬ ছেলের দ্বিতীয়।
জন্ম পশ্চিম বঙ্গের বর্ধমান জেলার নানুর গ্রামের এক নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৪০ সালে।বিভূতি বাবুর ছোট একটি বাজেমালের দোকান ছিল কোলকাতার চক এলাকায়। ১৯৪৭ এর দেশভাগের সময় বিভূতি বাবু যে কালা জ্বরে পড়লেন সেখান থেকে সেরে উঠলেন বটে,কিন্তু কোলকাতায় আর যাওয়া হয়নি।বড় ছেলে সবে ১২ ক্লাস পাশ করে শান্তি নিকেতন ভর্তি হয়েছে|কাক ডাকা ভোরে প্রমিলা বসুর রান্না করা একমুঠো ভাত ও মরিচ ভর্তার বাটিটা সাইলের কেরিয়ারে বেঁধে নানুর থেকে বের হয়ে শান্তি নিকতনে পড়া লেখা শেষে এই গ্রাম ঐ গ্রামে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়েদের টিউশন পড়িয়ে বাড়ি ফিরতে রাত ৯ টা বেজে যায়। সংসারের আয় বলতে বড় ছেলের টিউশনের টাকা আর বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো সাকসব্জি বিক্রি।বিভুতি বাবুর বাপদাদার রেখে যাওয়া জমিজমা নেই বললেও চলে।অভাব অনটনের সংসারে হালটা প্রমিলা বসুর হাতে শক্ত ভাবে বাঁধা।বিভূতি বাবু খায় দায় ঘুমায়, সময় মত প্রার্থনা, পড়ন্ত বিকালে পাশের বড় পুকুরে বর্ষিতে মাছ ধরা এই নিয়েই তার সময় কাটে।ছেলে মেয়ের নাওয়া খাওয়া, পড়ালেখা সুখ অসুখ সবকিছুর দায় প্রমিলার ঘাড়ে।অজপাড়াগাঁয়ে জন্ম নেওয়া মহিলা,প্রমিলার চোখে মুখে আগুন।বিভূতি বাবুর সংসারটা যেন একটা যুদ্ধ ক্ষেত্র।সেই যুদ্ধ ক্ষেত্রের সিপাহিও প্রমিলা, সেনাপতিও প্রমিলা।
সুর্য্য উঠার আগে ঘুম ভাঙ্গে।কাঠের চুলায় ফু দিতে দিতে কোলের ছোট ছেলেটাকে বুকের দুধ খাওয়ানো,বড় ছেলের ভাত আর মরিচ ভর্তার সাথে একটুকরা আলু বা পটল গুজে খাবারের বাটিটা বেধেঁ পুকুর ঘাটে গিয়ে আগের রাতের ভিজানো ময়লা কাপড়গুলো ধুয়ে রোদে মেলে ঘরে ফিরে বিভূতি বাবুর রুটি মোড়ানো আলু সেদ্দর বাটি টা নিয়ে পাশের ঘরে ছুটে চলা…এই করতে করতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেলের শুরু প্রমিলার হিসেব থাকেনা।সকালের আর দুপরের খাবারটা একসাথে খেয়ে ঝাড়ু হাতে মাঠির ঘরের দরজা জানালা মুছে রোধে শুকানো কাপড় চোপড় ভাঁজ করে খাটের কোনায় রেখে বাড়ির আঙ্গিনায় লাগানো লাউ গাছের কচি পাতার শাখ বানিয়ে রাতের খাবারের  আয়োজন।বড় মেয়ের জ্বর সারেতো, মেঝ ছেলের পেট খারাপ,মেঝ ছেলের পেট শক্ত নাহতেই ছোট মেয়ে ইঠানে লাফালাফি করতে গিয়ে পা ভেঙ্গে চিৎকার চেচামেচি সবকিছু সামাল দিয়ে কপালের ঘামটা মুছে বাড়ির উঠানে পিড়ি চেপে পাশের ঘরের রমারানীকে ডেকে চুলে একটু তেল দিতেই বিভূতি বাবুর ডাক,ও প্রিয়র মা,তুমি কি শুনছো?মাথায় তেলটা সবেমাত্র লেগেছে,চুলটা আর বাঁধা হয়নি,অনেকটা দৌড়ে ঘরে ঢুকে শুনে, বিভুতি বাবু বিড় বিড় করে বলছে,মরার বিড়ির পেকেটা গেল কই? প্রমিলা রেগে বলল,কালা জ্বর থেকে সবে সেরে উঠলেন।ডাক্তার বাবু বলে গেছেন, আপনার বিড়ি স্পর্শ করা নিষেধ। বিড়ির পেকেট  আমি পুকুরে ফেলে এসেছি সইদিন যেইদিন ডাক্তার বাবু শেষ গেলেন। বিভূতি তারপরও বিড় বিড় করে বলে,বিড়িটা খেলে একটু আরাম পেতাম। সারাদিনের খাটুনি,তার উপর বিভূতি বাবুর আরাম খোঁজা।তারপরও প্রমিলার চোখে মুখে ক্লান্তি নেই।
প্রিয়রন্জন,বিভূতি বাবুর মেঝ ছেলে।পড়ালেখা অমনোযোগী। স্কুল পালিয়ে বন্ধুদের নিয়ে খালে বিলে ঘুরে বেড়ায়।মায়ের জমানো টাকা চুরি করে পাড়ার বকে যাওয়া ছেলেদের নিয়ে বহরমপুরে গিয়ে বাইস্কোব দেখে।প্রমিলার শত যন্ত্রণার ভিড়ে প্রিয় সবছে বড় যন্ত্রনা।মাস্টার মশাই প্রায় বাড়িতে এসে বলে যায় প্রিয়কে দিয়ে পড়ালেখা হবেনা।প্রমিলা শুনেও শুনেনা।আর বিড়বিড় করে বলে,না মশাই আমার ছেলে অনেক বড় হবে।কোলকাতার বড় কলেজে পড়বে।
ক’দিন পর প্রিয়র সারাদিন কোন খবর নেই।বিকেল গোয়ালার দুধের দাম দিতে বালিসের ফাঁকে জমা টাকা খোঁজতে গিয়ে প্রমিলার মাথায় হাত।জমনো তিন টাকা থেকে ১ টাকা নেই। নিশ্চয় প্রিয় টাকাটা চুরি করেছে। সন্ধ্যা পেরুতে প্রিয় বাসায় ফিরে। হাত পা রসিতে বেধে গায়ের জামা খুলে বেতে তেল মেখে প্রমিলার বেত্রাঘাতে পিটের ছামড়া ফেটে রক্ত দেখে প্রিয় মুখ খোলে।হা মা আমি টাকা চুরি করে বন্ধুদের নিয়ে বহরমপুরে গিয়ে বায়স্কোপ দেখে ফেরার পথে বড়োয়া বাজারে লুচি আর আলু বাজি খেয়ে বাড়ি ফিরেছি মা।প্রমিলার বেত্রাঘাত থামেনা।
প্রিয়রঞ্জন সকালে স্কুলে যায়। দুপুরে ঘরে ফিরে বই খাতা রেখে যে ঘর থেকে বের হয় ঘরে ফিরে সন্ধ্যার পর।কোনোদিন মাঠে হাডুডুড,কোনদিন পাশের খালে নৌকা বাইচ,কোনদিন দল বেঁধে বন্ধুদের নিয়ে নদীতে সাতার কাটা, কোনদিন ডাংগুলির আঘাতে কারো মাথা ফাটানো এই করতে করতে কোন রকমে এন্ট্রেন্স পরীক্ষায় মুখোমুখি হতেই প্রিয় দেখে এতদিনে যা’হবার তাই হয়েছে।অংকে ফেল।১০ মার্ক গ্রেস পেয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে এন্ট্রেন্স পাশ।
তৃতীয় শ্রেনীতে এন্ট্রেন্স পাশ ছাত্রকে দিয়ে আর কি পড়ালেখা!! প্রিয় মনে মনে খুশী।কলজে যেতে হবেনা সকালের ঘুম ভেঙ্গে।
মাকে এসে বলে,মা অংকে ফেল,এন্ট্রেন্সে তৃতীয় শ্রেনী। আমাকেতো কোন কলেজে নেবে না। আমি কি কোলকাতায় গিয়ে কোন এক কাজে লেগে যাব? প্রমিলা কাঠের চুলার আগুনে ফু দিতে দিতে বলল,না।তুৃই কলেজে ভর্তি হবি।কোলকাতার কলেজ নানিলেও তোকে গ্রামের কলেজে নেবে। আমি মাস্টার মশাই কে ডেকে পাঠিয়েছে।ওনি একটা ব্যবস্থা করবেন।প্রিয়  আবার বলে আমিতো অংকে ফেল।এবার প্রমিলা চুলার  আগুন থেকে মুখটা ফিরিয়ে কপালের জমাট বাঁধা ঘামটা আচলে মুছে প্রিয়র দিকে মায়াবি চোখে তাকিয়ে বলে, না বাপু ,তোর কলেজে পড়া চাই চাই। তুই পরীক্ষার অংকে ফেলতো কি হয়েছে,জীবনের অংকে তুই কখনো ফেল করবিনা।মায়ের সাহসে প্রিয় গ্রামের কলেজেই ভর্তি হয়ে গেল অংকের ভয়ে বানিজ্যে।বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে প্রিয়র জন্মের ক’বছর পর।মেঝ বোনের বিয়ের কথা প্রিয়র মনে আছে।যৌতুকের জন্য কেনা ট্রানজিস্টর জামাই বাবুর পছন্দ হয়নি বলে বিয়ের পিড়িতে বসবেনা।শীতের মাঝ রাতে গ্রামের মাতব্বর এসে বুঝিয়ে সুজিয়ে সাত পাখ দিয়ে মেঝবোনকে বিদায় দেওয়ার কথা প্রিয়র স্পষ্ট মনে আছে।সেজ বোনটা প্রিয়র দুই বছরের বড়।তার বিয়েটা মনে হয় সেদিন হল।জামাই বাবু কালো, মোটা। চুলে নারেকল তেল মেখে বিয়ের পিড়িতে বসে এদিকে সেদিক তাকানো দেখে প্রিয়র হাসি কে থামায়।ছোট বোনটার বিয়েতো বলা যায় প্রিয় নিজে দাড়িয়ে দিয়েছে বড় ভাই এর সাথে।
প্রিয়র এন্ট্রেন্স পরীক্ষার পর বড় ভাই এর বিয়ে।কোলকাতার নাম করা ডাক্তারের মেয়ে।বিভূতি বাবুর মাটির ঘরে কোলকাতার বড় ডাক্তারের মেয়ে ঢুকেই হতভম্ব। কোথা থেকে কোথা!!
প্রিয় কলেজে যায় পায়ে হেটে।স্কুল ফাঁকি দেওয়ার মত কলেজ ফাঁকিটা  আর দেয়না।মায়ের জমানো টাকা চুরি করে বন্ধুদের নিয়ে বায়স্কোপ দেখাটাও বন্ধ। বড়ভাই এর অক্লান্ত পরিশ্রম প্রিয়কেও জীবনমুখী করে।কলেজ শেষে পাশের ভোকেশনাল স্কুলে এক ঘন্টার মেকানিক্যাল ট্রেনিং।প্রিয়র ভয় অভাবের সংসারে হয়ত তার আর পড়ালেখা হবেনা।চাকুরী করতে হলে একটা ভোকেশনাল ট্রেনিং কাজে লাগবে।
এন্ট্রেন্সে তৃতীয় শ্রেনীতে পাশ করা প্রিয় ইন্টারে দ্বিতীয় শ্রেনী।মায়ের খুশী কে দেখে।প্রিয়কে ডেকে বুকে জড়িয়ে কপালে চুমু খেয়ে মা বলে,বলিনি বাপু,তুমি কলেজে পড়বে?এবার বাপু তোমাকে কোলকাতার বড় কলেজে পড়তে হবে।বলে কি মা!! কোলকাতার বড় কলেজ? থাকা, খাওয়া, যাতায়াত খরচ, এত টাকা কোথায় পাব মা?
পাশের ঘরে বড়ভাই কি যেন করছিল।প্রিয়র কাছে এসে পাশের চেয়ারে বসে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল,তোমার ছেলের পড়ালেখা হবে আমি বুঝিনি।ইন্টার যখন ভাল ভাল পাশ করল বাকিটা চালিয়ে যেতে হবে।খরচাপাতি নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবেনা।হিসাব করে দেখেছি কোলকাতায় থাকা খাওয়া,যাতায়াত, টিউশন ফীস সব মিলিয়ে বিশ টাকার বেশী লাগবেনা মাসপ্রতি। আমার ছোট ব্যবসাটা মোটামুটি চলছে।সংসার চালিয়ে তোমার ছেলেকে মাস প্রতি বিশ টাকা জোগান দেওয়া কঠিন হবেনা।খুশীতে মায়ের চোখেমুখে হাসি।মায়ের খুশি দেখে প্রিয়রও নতুন করে স্বপ্ন দেখা শুরু।
দুই মাসের মধ্যে বড় ভাই এর হাত ধরে বহরমপুরে গিয়ে কোলকাতার ট্রেনে চড়ে স্বপ্ন যাত্রা।
কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি।বোর্ডিং এ সিটও মিলে গেলো।অংকের ভয়ে বানিজ্য নিয়েই প্রিয়র শরু।সকালে ঘুম থেকে উঠেই মায়ের কথা ভেবে চোখটা ভিজে আসে।বাবার কথা মনে হয়।ছোট ভাইগুলোর কথা ভাবতে ভাবতে ক্লাসরুম।এই করতে করতে বছর যায়।পাশের গ্রামের রুনুর কথা ভুলেই গেছিল প্রিয়।ক্লাস শেষে বোর্ডিং এ ফিরে ডাক বক্সে খুলেই চোখে পড়ে চিঠির খাম।লিখা প্রতিঃ প্রিয়রন্জন বর্মন,বেড নম্বর সি ৩,কক্ষ নম্বর ২….
প্রেরক ঃ রেনুকা চৌধুরী ( রুনু),নানুর,বর্ধমান
প্রিয়র চোখ কপালে।রুনু ঠিকানা পেল কোথায়? কি বা লিখেছে? তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে খামের সাথে চিঠির একটি কোনাও ছিড়ে গেল,যেখানে লেখা ছিল…
তোমার,
রুনু..
প্রিয় প্রিয়,
তুৃমি কোলকাতায় যাবে জানতাম।কিন্তু এভাবে আমাকে নাদেখে,নাবলে চলে যাবে ভাবিনি।তারপরও আমি অনেক খুশী।তুৃমি কোলকাতা চাকুরীর খোঁজে যাওনি।গিয়াছো উচ্চ শিক্ষা নিতে।এও জানি কোলকাতায় অনেক মানুষের ভিড়ে রুনু নামের তোমার পাশের গ্রামের মেয়েটাকে একদিন ভূলে যাবে….
প্রিয়র চোখ টা বন্ধ হয়ে এলো।কপালে ফোটা ফোটা ঘাম।কিংকর্তব্যবিমূড়!
মিনিট দশেক পর প্রিয় চোখ খুলে,কপালের ঘাম সার্টের কলার টেনে মুছে পড়ার টেবিলে রাখা খাতা কলম নিয়ে জীবনের প্রথম পত্র লেখা, তাও আবার ভূলে যাওয়া পাশের গ্রামের মেয়ে রুনুকে।
প্রিয়তমা,
আমি ভাবিনি কখনো তোমাকে লেখতে বসব।তাও আবার কোলকাতায় এসে।তোমার চিঠি পড়ে লজ্জা পেলাম।বড় ভূল হয়ে গেছে।কোলকাতায় আসার আগে তোমাকে নাদেখে এসে বড্ড ভূল হয়ে গেছে। আর হবেনা। আগামী ছুটিতে বাড়ি গিয়ে মাকে দেখে প্রথম যাব তোমাদের বাড়ি। আবার কোলকাতায় ফেরার পথে তোমাকে নাদেখে ট্রেনে বসবনা,কথা দিলাম।তুৃমি ভাল থেকো।পড়ালেখা বন্ধ করোনা।তোমার চিঠির অপেক্ষায়
তোমার,
প্রিয়
দিন যায়,সপ্তাহ যায়, মাস যায়, দেখতে দেখতে মাস গড়িয়ে বছর যে কবে শেষ হয়ে গেল প্রিয় বুঝেইনি।ক্লাস,এক্সাম সাথে খেলাদুলা,নাটক,কবিতা এসবের মাঝে রনু নামের মেয়েটার কথা মনেই নেই।রুনুরও কোন চিঠিপত্র নেই।পুজার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে মায়ের সাথে দেখা করে চাঁদনি রাতে গিয়ে হাজির রুনুূদের বাড়ি।রুনু তখন হারিকেনের বাতিতে পরীক্ষার পড়ালেখায় ব্যস্থ। আলো আধারিতে প্রিয়কে দেখে রুনুর ভাবখানা এমন পরিচিত কেউ একজন এসেছে, বসবে,এক মগ জল ছেয়ে পান করে গেলাম বলে চলে যাবে।প্রিয় অবাক হয়ে বলল,রুনু , আমি প্রিয়,কোলকাতা থেকে এসেই মায়ের সাথে দেখা করেই তোমাদের বাড়িতে।তোমাকে না কথা দিয়েছিলাম! জী,তাতো দেখছি।বসেন, আমি জল নিয়ে আসি বলে রুনু ভেতরের ঘরে গিয়ে কাঁসার মগে জল হাতে ফিরে এসে প্রিয়র হাতে দিয়ে বলে, কি হল বসেন।দাঁড়িয়ে জল খেতে নেই।
প্রিয় আর বসল।দাঁড়িয়েই জল খেয়ে বলল,না, আজ আর বসবনা। আর একদিন আসব।মা রাতের খাবার হাতে এতক্ষনে বসে  আছে আমার অপেক্ষায়।                                                                                                                                      


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ