বাবা মার কাছ থেকে আলাদা না হওয়ায় তুচ্ছ ঘটনায় মামলার অভিযোগ স্বামীর

আল-মুজাদ্দেদী২৪বিডী নিউজঃ ২০১৮ সালের ১লা আগষ্ট পারিবারিক ভাবে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল গ্রামের স্বপন চন্দ্র দাসের মেয়ে সঞ্চিতা রানী দাসকে বিয়ে করেন চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার কলাদী গ্রামের প্রহল্লাদ চন্দ্র দাসের ছেলে মিঠুন কুমার দাস।বিয়ে করার পর কয়েকমাস ভালোভাবে কাটলেও বাকী দিনগুলো অসহ্য যন্ত্রণায় কাটাতো ঢাকা সোয়েটার ফ্যাক্টরীতে ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকুরী করা মিঠুন দাস।
মিঠুন দাস বলেন,সিংগাপুর প্রবাসী আমার মামা শ্বশুর পলক দাসের উস্কানীতে ও শ্বাশুড়ি অঞ্জনা রানী দাসের বিভিন্ন প্ররোচনায় আমার স্ত্রী সঞ্চিতা রানী দাস আলাদা থাকার জন্য বিভিন্ন উচিলায় সংসারে আমার বাবা মার সাথে ঝগড়া লাগতো।আমি পরিবারের একমাত্র ছেলে,কি করে নিজের বাবা মাকে ছেড়ে আলাদা থাকবো? আলাদা থাকলে আমার বৃদ্ধ বাবা মায়ের সেবা যত্ন করবে কে?কিন্তু সঞ্চিতার সাফ কথা আমাকে ঢাকায় নিয়ে আলাদা থাকতে হবে।এই নিয়ে এলাকায় অনেক দরবার সালিশ হয় সমঝোতা ও হয়।গণ্যমাণ্য ব্যক্তিরা শ্বশুর শ্বাশুড়ির প্রতি দয়া ও বিনয় ব্যবহার করার জন্য সঞ্চিতাকে অনুরোধ করা সহ বোঝানোর চেষ্টা করেন।কিছুদিন ভালো থাকার পর আবার সঞ্চিতা আগের অবস্থায় ফিরে যায়,ঘন ঘন বাপের বাড়ি চলে যায় মানতে চায় না স্বামীর কোন আদেশ নির্দেশ।কিছু দিনের কথা বলে বাপের বাড়ি মহিচাইলে গেলে মাসের পর মাস কাটিয়ে দেয়।সন্দেহ হয় মিঠুন দাসের তাই গত ৪ই অক্টোবর ২০১৯ সালে কাউকে না বলে হঠাৎ শ্বশুর বাড়ি মহিচাইলে উপস্থিত হয় মিঠুন।শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখে তার স্ত্রী সঞ্চিতা রানী নেই।শ্বশুর শ্বাশুড়িকে জিজ্ঞেস করলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে নি।ফলে বাধ্য হয়ে চান্দিনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।ডায়েরি নং ১৯৩ তারিখ ৫/১০/২০১৯ইং।ডায়েরি করার পর উঠে আসে সঞ্চিতার বিয়ের আগের জীবনের কাহিনী ও নিয়ন্ত্রণহীন জীবনের চলাফেরার ফিরিস্তি।
মিঠুন কুমার দাস আরো বলেন,নিজের মান সন্মানের দিকে তাকিয়ে নিজের স্ত্রীর বিভিন্ন কু-কীর্তিকে মেনে নিয়ে স্ত্রীকে ঘরে তোলি।বিভিন্ন গোমর জেনে যাওয়ায় স্ত্রী আর কোন ঝগড়া ঝাটি করতো না।গত ৫ই অক্টোবর ২০২০সালে সাইড সিজারের মাধ্যমে মিঠুন সঞ্চিতার ঘরে আসে কন্যা সন্তান।এখানে কন্যার আদর যত্ন হচ্ছে না এই উচিলায় কন্যাকে নিয়ে বাপের বাড়ি যেতে চায় সঞ্চিতা।বাধ সাধে স্বামী মিঠুন দাস।এতেই কাল হয় মিঠুনের পরিবারের। বাজে দুর্ব্যবহার ও অশ্লীল কথা বার্তা বলার কারনে স্ত্রীকে থাপ্পড় মারে মিঠুন।এই থাপ্পড়কে কেন্দ্র করে জিদে নিজের শরীরে সঞ্চিতা আরো কিল ঘুষি মারে।পরে মামা পলক দাস ও মা অঞ্জনা রানীর পরামর্শে ভর্তি হোন হসপিটালে।
হসপিটালের কাগজ নিয়ে স্বামী,শ্বশুর ও শ্বাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুকের দোহাই দিয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় মামলা ঠুকে দেন।সিংগাপুর প্রবাসী সঞ্চিতার মামা পলক কুমার দাস নিজেকে ক্ষমতাধর জাহির করার জন্য মিঠুনের পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিত এবং ভাগনী যা চায় তা না করলে ঐ পরিবারকে জেলের ভাত খাওয়ানো হবে বলে হুশিয়ারি দিত।এই তুচ্ছ ঘটনাকে পারিবারিক ভাবে মীমাংসা না করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য মামলা করে মিঠুনের পরিবারকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে পলক দাস।মিঠুন আরো বলেন,এখন লোক মারফতে শুনতেছি,আমি যদি আমার বাবা মাকে ছেড়ে স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা না থাকি তাহলে আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আরো মামলা করা হবে।এই ঘটনার সত্যতা জানতে সঞ্চিতার বাবা স্বপন কুমার দাসের নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেন নি।

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ