ফরিদগঞ্জে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন,শাশুড়ি ও শ্যালককে গুরুতর জখম ,হত্যাকারী জামাই আটক

                                                      আল-মুজাদ্দেদী২৪বিডী.কম: ফরিদগঞ্জে  শ্বশুর বাড়িতে এসে ক্ষিপ্ত জামাই ছুরি দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা এবং শাশুড়ি ও শ্যালককে      গুরুতর জখম করেছে। গতকাল বুধবার ইফতারের কিছু সময়ে আগে উপজেলার গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।       হত্যাকারী জামাই আল-মামুন মোহন (৩২) কে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এলাকাবাসী।
জামাতা আল মামুনের বাড়ি পাশ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলায়। নিহত স্ত্রী গৃদৃকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজের ডিগ্রি বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিনা আক্তার রিতু (২০) এবং গুরুতর আহত শাশুড়ি পারভীন আক্তার (৪৫) এবং শ্যালক প্রান্ত (১৭)। পুলিশ ফরিদগঞ্জ রাতেই পোস্টমর্টেমের জন্য নিহত রিতুর লাশ উদ্ধার করেছে। অপরদিকে গুরুতর আহত পারভীন আক্তার চাঁদপুর সদর হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং প্রান্ত গৃদকালিন্দিয়া বাজারে চিকিৎসা নিচ্ছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আড়াই বছর আগে রায়পুর উপজেলার শায়েস্তানগর গ্রামের মনতাজ মাস্টারের ছেলে আল মামুন মোহন ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের গৃদকালিন্দিয়া গ্রামের খাঁ বাড়ির সেলিম খানের মেয়ে তানজিনা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর সৌদি আরবে গেলেও গত দেড় বছর আগে আল মামুন মোহন সৌদি আরব থেকে ফেরত আসে। এরপর থেকে সে বেকার অবস্থায় রয়েছে। বুধবার বিকালে সে তার নিজ বাড়ি রায়পুর থেকে শ্বশুর বাড়ি গৃদকালিন্দিয়া আসে। ইফতারের আগমুর্হূতে স্ত্রী তানজিনা আক্তার রিতুর সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে রিতুকে উপর্যুপরি ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এব পর্যায়ে মেয়ের আর্তচিৎকারে মা পারভীন আক্তার ও ভাই প্রান্ত এগিয়ে আসলে তাদেরও ছুরিকাহত করে মোহন। এসময় সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আশেপাশের লোকজন টের পেয়ে তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এদিকে এলাকার লোকজন দ্রুত রিতু ও তার মাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রিতুকে মৃত ঘোষণা করে। আশংকাজনক অবস্থায় পারভীন আক্তারকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। এছাড়া আহত ভাই প্রান্ত গৃদকালিন্দিয়া বাজারে চিকিৎসা নেয়।
নিহত রিতুর মামী তাছলিমা বেগম জানায়, সৌদি আরব থেকে মোহন চলে আসার পর বেকার অবস্থায় ছিল। বিয়ের সময় রিতুকে দেয়া স্বর্ণালংকার সবকিছু বিক্রি করে ফেলে সে। তার বাড়িকে বসবাস করার জন্য কোন ব্যবস্থা না থাকায় রিতু স্বামীর বাড়িতে যেতে চাইতো না। সে বাবার বাড়ি থেকেই পড়ালেখা করতো। এই সব বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্বের জের ধরে রিতুকে হত্যা করে এবং তার মা ও ভাইকে আহত করে মোহন।                                                                                                 
ঘাতক মোহন ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক অবস্থায় জানায়, তার স্ত্রী পরকীয়ায় লিপ্ত। তার প্রবাস থেকে পাঠানো সব অর্থ তারা আত্মসাৎ করেছে। তাকে পাত্তা দিতো না। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে ছুরিকাঘাত করেছে।
ফরিদগঞ্জ থানার এসআই কাজী মো. জাকারিয়া ঘটনাস্থল থেকে মোহনকে আটক করে এবং পোস্টমর্টেমের জন্য লাশ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রকিব জানান, নিহত রিতুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক মোহনকে আটক করা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ