দলের সাথে না থাকলেও, সাকিবের অভাব অনুভব করবে দল :মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ

আগামীকাল থেকে ভারতের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সিরিজের আগে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ শিবির জুড়ে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে দলের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। জুড়ারির তথ্য গোপন করার অভিযোগে বর্তমানে আইসিসি কর্তৃক এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ আছেন সাকিব। তাই ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মত দ্বিপাক্ষিক সিরিজে খেলতে পারছেন না সাকিব।'এখনও সাকিবকে ভালোবাসি এবং ভালোবেসে যাবো'

দলের সাথে না থাকলেও, সাকিবের অভাব অনুভব করবে দল এতে কোন সন্দেহ নেই। দেশ ছাড়ার আগে এমনটাই বলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এমনকি সিরিজ শুরুর আগেও সাকিবকে নিয়ে আপসোস রিয়াদের মুখে।

প্রথম টি-২০র আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আপনি খুবই ভালো প্রশ্ন করেছেন। আমি আশা করি, উত্তরটাও চমৎকার হবে। আমরা সাকিবকে যেভাবে ভালোবাসতাম, সেভাবেই ভালোবাসি এবং ভালোবাসবো। কারন সাকিবের সাথে আমাদের যে চমৎকার সর্ম্পক রয়েছে, সে যখন দলে ফিরবে আমরা দু’হাতে তাকে জড়িয়ে ধরবো এবং ড্রেসিংরুমে স্বাগত জানাবো।’

সাকিবের কাছ দল ব্যাটিং-বোলিং দু’টি সার্ভিসই একত্রে পেয়ে থাকে। কিন্তু সাকিব না থাকায় দল যে চাপে পড়বে বা কম্বিনেশন নিয়ে ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে তা স্পষ্ট। তবে সাকিবের না থাকাটা দলের অন্যান্যদের জন্য বড় সুযোগই দেখছেন মাহমুদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সাকিবের না থাকাটা চাপ হিসেবে নিচ্ছি না। সাকিবের অনুপুস্থিতি অন্য খেলোয়াড়দের প্রমানের ভালো সুযোগ। এমন কি আমারও সুযোগ থাকছে প্রমানের। এটি ঠিক, সাকিবের অভাব পূরণ করা সম্ভব না। আমাদের যতটুকু সার্মথ্য আছে, আমরা যেন সেটি পূরণ করতে পারি। সাকিব তো আর একদিনে তৈরি হয়নি। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার দলে না থাকলে প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক। ফলে একজন অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান ও বোলারকে দলে নিতে হয়।’

গেল কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ অন্যরকম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, এটিকে কিভাবে দেখছেন মাহমুদুল্লাহ। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা মাঠে সেভাবে অনুভব করি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি প্রভাব পড়ে। আমাদের কাছে খেলাটিই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ভারত-অস্ট্রেলিয়া বা যেকোন দলের বিপক্ষেই আমরা শতভগের বেশি দেয়ার চেষ্টা করি।’

দলের দুই সেরা তারকা সাকিব ও তামিম ইকবাল ভারতের বিপক্ষে সিরিজে খেলছেন না। সাকিব নিষিদ্ধ, আর তামিম ব্যক্তিগত কারনে ভারত সফরে নেই। তাই সাকিব-তামিমের অভাবকে মাহমুদুল্লাহ এভাবে দেখছেন, ‘আমি শুধু এতটুকু বলতে পারি, তরুণ যারা আছেন- আফিফ, নাইম, বিপ্লব তাদের উপর আমার শতভাগ বিশ্বাস আছে। আমার বিশ্বাস তারা ভালো পারফরমেন্স করতে পারবে। এখন এটা তাদের ব্যাপার, তারা কিভাবে চিন্তা করছে বা তাদের মানসিকতার ব্যাপার। তারপরও আমরা নিজেদের ভেতর কথা বলি। সিনিয়রদের সাথে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে।’

এবারের সিরিজে বাংলাদেশ দলে অভিজ্ঞতা বলতে শুধুমাত্র মাহমুদুল্লাহ-মুশফিকুর রহিম। এমন অভিজ্ঞতা দিয়ে ভারতের মত দলকে ধরাশায়ী করা মোটেও সহজ নয় এমনটা জানেন মাহমুদুল্লাহ। তারপরও তিনি বলেন, ‘আসলে চাপ থাকবেই। এভাবেই খেলতে হবে এবং পারফরমেন্স করতে হবে। আমি খুশী যে, আল-আমিন দলে ফিরেছে। দীর্ঘদিন ধরেই দলের সাথে খেলছে সে। সানিও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। সবকিছু মিলিয়ে আমি আশাবাদি। এখন মাঠে নেমে পারফরমেন্স করাই আসল লক্ষ্য।’

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে, দলের সেরা খেলোয়াড়রা বাইরে থাকলে বা ক্রাইসিস মোমেন্টে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। বর্তমানে কঠিন এক সময় পার করছে বাংলাদেশ। তবে কি এবারও বাংলাদেশ জ্বলে উঠবে? এই প্রশ্নে রিয়াদ বলেন, ‘আমরা বেশ ইতিবাচক। ফলাফল নিয়ে আমরা ইতিবাচক। আমরা জানি নিজেদের কন্ডিশনে ভারত অনেক বেশি শক্তিশালী। সম্প্রতি পারফরমেন্স তেমনই বলে। আমাদের হারানোর কিছু নেই। যা হাতে যা আছে তা নিয়েই আমরা বেশি ভাবছি। ভালো এবং ইতিবাচক ক্রিকেট খেলতে চাই।’

সিরিজ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা কথা জানাতে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা যেন আমাদের সেরা পারফরমেন্স করতে পারি এবং ভালো ক্রিকেট খেলে যেন জিততে পারি।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ