তেলাপোকার দুধ কী?এই দুধের উপকারিতা বা খাদ্যগুণ অনেকাংশে……

তেলাপোকার দুধ কী?

তেলাপোকার দুধ হলো একটি প্রোটিন ক্রিস্টাল, যা ডিপলোপ্‌টোরা পাঙ্কটেটা নামক একটি তেলাপোকার প্রজাতি থেকে উৎপাদিত হয়। যাতে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যামাইনো অ্যাসিড, প্রোটিন, ফ্যাট ও সুগার। এই কারণে গবেষকদের দাবি, অন্যান্য দুধের থেকে এই দুধের উপকারিতা বা খাদ্যগুণ অনেকাংশে বেশি।

পুষ্টিগত মান

এই প্রজাতীয় তেলাপোকার ‘ব্রুড স্যাক’ থেকে সংগ্রহ করা দুধের পুষ্টিতে থাকে ৪৫ শতাংশ প্রোটিন, ২৫ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ৫৫ শতাংশ অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং ১৬-২২ শতাংশ লিপিড। তা ছাড়াও এটিতে ওলিক অ্যাসিড, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড, গ্লিসারল এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে।

এটি কীভাবে সংগ্রহ করা হয়?

প্রথমে ব্রুড স্যাকে ডিমগুলো জমা হয়। এরপর ডিমগুলো ভ্রূণে পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রুড স্যাকটি আস্তে আস্তে তাদের পুষ্টিকর খাবার প্রদানের জন্য এক প্রকার তরল জাতীয় পদার্থ উৎপাদন শুরু করে, যাকে দুধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর জমা হওয়া ভ্রুণ থলি থেকে দুধ খেতে শুরু করে, যা তাদের পেটে দুধের ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে।

ভ্রূণের শরীরে অতিরিক্ত দুধগুলো তাদের অন্ত্রে স্ফটিকের মতো এক প্রকার তরল পদার্থ গঠন করে। গর্ভবতী তেলাপোকার ব্রুড স্যাক থেকে ভ্রূণগুলোকে আলতোভাবে ছাড়িয়ে দিয়ে এই দুধ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এই তেলাপোকার দুধ উৎপাদনের ধারণাটি অসম্ভব ব্যাপার। কারণ ১ হাজার তেলাপোকা থেকে মাত্র ১০০ গ্রাম দুধ পাওয়া সম্ভব।

ভবিষ্যতে তেলাপোকার দুধ কীভাবে উপকারী হবে?

সমীক্ষা অনুসারে, তেলাপোকার স্ফটিক দুধের প্রোটিনগুলো পরবর্তী প্রজন্মের সুপারফুড হতে পারে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। এই দুধ ক্যানসার, ডায়াবেটিস এবং ইস্কেমিক হৃদরোগের মতো নির্দিষ্ট কিছু রোগের ঝুঁকি রোধেও খুব পরিচিত।

এছাড়া যাদের দুধের প্রতি অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের জন্য এটি একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে ওপরে বর্ণিত বিষয়গুলোর জন্য ব্যাপক অধ্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে এই প্রকার দুধের খারাপ দিকও রয়েছে।

যেমন, গরুর দুধের চেয়ে এর ক্যালোরির মাত্রা তিনগুণ বেশি। ফলে অত্যধিক পরিমাণ স্থূলত্ব বা ওজন সম্পর্কিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের এই দুধের ব্যবহার এড়ানো উচিত। কারণ এক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার কোনো প্রমাণ নেই।

চূড়ান্ত দ্রষ্টব্য

তেলাপোকার দুধ বাণিজ্যিকভাবে উপলব্ধ পানীয় নয়। যদিও বিজ্ঞানীদের মতে, এটি উচ্চ পুষ্টি যুক্ত পানীয় হিসেবে প্রমাণিত। হতে পারে, অদূর ভবিষ্যতে এটি সবার জন্য উপলব্ধ হবে তবে, তা গবেষণার ওপর নির্ভর করছে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ