জয়া আহসান আস্তিক না নাস্তিক সেটার আগে জেনে রাখেন:জান্নাতুন নাঈম প্রীতি

                                                                                                                                 জয়া আহসান আস্তিক না নাস্তিক সেটার আগে জেনে রাখেন, পৃথিবীর সবচেয়ে বড়ো রিফিউজি ক্যাম্পে করোনার প্রথম সংক্রমণের কেসগুলো পাওয়া গেছে- পশ্চিমা মিডিয়াগুলো প্রায় সবাই এই শিরোনাম নিয়ে লিড স্টোরি করেছে। এই ক্যাম্পটি হচ্ছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য বানানো ক্যাম্প। আয়রনি হচ্ছে যে পশ্চিমা মিডিয়া নিউজটি ফলাও করে করেছে তাদের রাষ্ট্র প্রধানরাই দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি মানুষকে রিফিউজি হওয়ার যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছেন!

বাংলাদেশ নামক ক্ষুদ্র দরিদ্র রাষ্ট্রটি জায়গা দিয়েছে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে। পশ্চিমা মিডিয়াগুলো কি জানেনা এই করোনা যুদ্ধ দুনিয়ায় সবচেয়ে বড়ো রিফিউজি ক্যাম্প থেকে শুরু করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদের ব্যক্তিটির মধ্যে বাছবিচার করেনা?

আমি ‘রিফিউজি’ শব্দটা ডিনাই করি। একটা মানুষকে রাষ্ট্র কীভাবে অস্বীকার করে? রোহিঙ্গারা জন্মসূত্রে সবাই মিয়ানমারের মানুষ। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের ওপর কিভাবে গণহত্যা চালায়?

যেমন গতকাল পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী লিখেছিলেন- বিদায় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, একইদিনে চলে গেলেন ভারতীয় লেখক দেবেশ রায়। আমি দ্বিমত প্রকাশ করেছি। আনিসুজ্জামান জন্মসূত্রে বাংলাদেশের না, দেবেশ রায়ও জন্মসূত্রে ভারতীয় না, কিন্তু নাগরিকত্ব সূত্রে দুজনই বাংলাদেশ আর ভারতের!
আনিসুজ্জামান পেয়েছিলেন ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা- পদ্মভূষণ। উনার জন্ম চব্বিশ পরগণায়। আর দেবেশ রায়ের জন্ম পাবনায়। আনন্দের কথা হচ্ছে দেশভাগ তাদের ভাগ করতে পারে নাই!                                     

যেমন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম চুরুলিয়ায়। তাহলে নজরুল কি ভারতীয় না বাংলাদেশি? নজরুল কি বাংলাদেশের জাতীয় কবি নন?

এরপর ফারুকী হাস্যকর যুক্তি দিয়ে বলেছেন- আনিসুজ্জামান সেইসূত্রে পাকিস্তানিও, কারণ দেশ ভাগের ক্ষেত্রেও তিনি জীবিত ছিলেন। আবার তিনিতো ব্রিটিশও। কারণ ব্রিটিশ ভারতেই তার জন্ম হয়েছিল! এখন?

তাহলে তাকে বলবো আপনার উচিত রাষ্ট্রনৈতিক চিন্তা করা। আনিসুজ্জামান পাকিস্তানের না কারণ তিনি পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করেছেন পরপর তিন আন্দোলনে- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। এখন যে লোক পাকিস্তানের বিরোধিতা করেছেন সেই লোককে কি পাকিস্তানি বলবো?

ব্রিটিশও বলবো না। কারণ ব্রিটিশরা উপনিবেশ তৈরি করেছিলো, ভারতীয়রা ছিলো দাস। তারা কাউকে ব্রিটিশ হিসেবে নাগরিকত্ব দেয় নাই। ফলে ব্রিটিশ ভারতের উপনিবেশে থাকা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ব্রিটিশ না! কাজেই আনিসুজ্জামানও ব্রিটিশ নন!

মজার ব্যাপার হচ্ছে- জেনারেল পারভেজ মোশাররফ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কিন্তু জন্মসূত্রে ভারতীয়। বারাক ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কালো প্রেসিডেন্ট ছিলেন, কিন্তু জন্মসূত্রে শেতাঙ্গ না। এখন এরা কি রিফিউজি?                    

খোদ পাকিস্তানে বসবাসকারী বেলুচরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরোধিতা করে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের আগে থেকে, তারাও পাকিস্তানি পরিচয় দিতে ইচ্ছুক না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ভৌগলিকভাবে রাষ্ট্রীয় টর্চার সেলটির নাম- বেলুচিস্তান। ভারতের ক্ষেত্রে যেমন কাশ্মীর আর আসাম। তারা যে রাষ্ট্রে জন্মেছে সেই রাষ্ট্র তাদের ডিনাই কেন করে?এমনকি আমাদেরই বা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের এই দশা কেন? why they have been refused by their government?

গোলাম আজম, সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরী, দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী নামক যুদ্ধাপরাধীরাও কেউ রিফিউজি নন। তাদের বিচার হয়েছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবেই। Even in that case: we showed respect who is our enemy! আবার তসলিমা নাসরিন বা দাউদ হায়দার যুদ্ধাপরাধী না হয়েও নির্বাসনে! কেন? সেই ধর্মীয় অনুভূতির প্যাচাল!

করোনা যুদ্ধ শিখিয়ে দিচ্ছে- দেশ দিয়ে বিদ্বেষ দিয়ে ভাগ করার নীতি অদূর ভবিষ্যতে ত্যাগ করতে হবে।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখেছিলেন- দেশপ্রেম একটা মিথ। আমি মনে করি উগ্র জাতীয়তাবাদ একটা মিথ। এই মিথ বিভক্তি ও বৈষম্য বর্ধক। পাকিস্তান রাষ্ট্র ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়েও টেকে নাই।
দেশ হিসেব করলে নজরুল বাংলাদেশের না, রবীন্দ্রনাথ বাংলাদেশের না! এঁদের কি রিফিউজি বলবো?

মান্টো বর্ডারকে বলতেন কালো সীমানা, উর্দু ভাষায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের নাম সিয়াহ হাসিয়ে( কালো সীমানা)। তাঁর মতো আমিও বর্ডার বিহীন দুনিয়ার স্বপ্ন দেখি। যে দুনিয়ায় সীমান্ত নাই সেই দুনিয়ার স্বপ্ন দেখি। যে দুনিয়ায় ফেলানীর লাশকে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের জের ধরে হত্যাকাণ্ডকে লিগ্যাসি দেয়া হবে না সেই দুনিয়ার স্বপ্ন দেখি।
আমার নিজের লেখা ‘সীমান্ত’ গল্পে আমি জানতে চেয়েছি দেশভাগের যে সীমানা নির্ধারণকারী প্রাচীর- ওইটা কোন দেশের?

আমার প্রিয় লেখক হেমিংওয়ে নিজে আমেরিকায় জন্মে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। কিউবান জেলেদের জন্য দিয়ে দিয়েছেন নোবেল প্রাইজের প্রাইজমানির পুরোটাই। মান্টো কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছেন- A writer picks up his pen only when his sensibility is hurt.

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সবচেয়ে সুন্দর মন্তব্য করেছিলেন জহির রায়হান। ‘সময়ের প্রয়োজনে’ গল্পে তিনি যুদ্ধে যাওয়া এক সৈন্যকে দিয়ে বলিয়েছিলেন- দেশতো ভূগোলের ব্যাপার, হাজার বছরে যার সীমানা হাজারবার বদলায়। আমরা তাহলে কেন যুদ্ধ করছি?
তিনি বলেছিলেন- আমরা যুদ্ধ করেছি সময়ের প্রয়োজনে। ভালো খারাপ এবং ন্যায়বিচার আর অন্যায়ের পার্থক্য করতে। So, there’s no legacy to refuse people by applying the conspiracy statement where’re they born.

তাই মরার পর আমি জন্মসূত্রে কেবল বাংলাদেশের লেখক, মুসলিম বাপ-মা সূত্রে মুসলমানদের লেখক, নিজের বিশ্বাসসূত্রে নাস্তিক লেখক, দেখতে কালো বলে কৃষাঙ্গ লেখক, দালালী সূত্রে নির্মলেন্দু গুণ, সুবিধাবাদীতা সূত্রে আল মাহমুদ- ইত্যাদি হইতে ইচ্ছুক না।
এইসব পরিচয় থেকে আমি অব্যাহতি চাই। আমি বারবার বাপমায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই যে আমার নামের শেষে ধর্মীয় বা বাপের পদবী নাই।

আমার এপিটাফে আমি জন্ম ও মৃত্যুসূত্রে পৃথিবীর বাসিন্দা লিখতে ইচ্ছুক। ইচ্ছুক ধর্মসূত্রে আমি মানুষ লিখতে। কোনো মানুষের হত্যাকাণ্ডের রক্তের দাগ আমি বহন করি নাই, এরচেয়ে সুন্দর পরিচয় আর কি কোথাও আছে?                    

প্রিয় পৃথিবী, তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না ১৯৭২ সালে যে ভিয়েতনামের এক সময় ঘুম ভাঙতো আমেরিকার ন্যাপাম বোমার আঘাতে, সেই আমেরিকাকেই তারা এই দুঃসময়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার PPE পাঠিয়েছে? হিংসার জবাব দিয়েছে ভালবাসায়! We should learn the lesson!

For those Rohingya people- their state did, but Bangladesh didn’t refuse them!
So dear western media, Why are you using the term ‘world’s biggest refugee camp’? Try to understand that it is the world’s biggest solidarity camp which is now affected by this pandemic disease.

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিপদে বাধ্য হয়ে আশ্রয় নেয়া অতিথি এবং বাংলাদেশ তার দূর্বল পররাষ্ট্রনীতির কারণে আশ্রয় দেয়া আত্মীয়। দুনিয়ার এই ক্রান্তিলগ্নে মিডিয়াগুলির আচরণ কি একটু সহনশীল হবে না?
আর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীই বা লেখকের দেশ নির্ধারণে এতো তৎপর কেন?জান্নাতুন নাঈম  প্রীতি এর ফেইসবুক থেকে,


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

  • item-thumbnail

    ৩০০ রোগের সমাধান ১টি গাছেই

    Views 0Likes 0Rating 12345 সজনে গাছ সবার কাছেই খুব পরিচিত। সজনে ডাঁটা, পাতা ও ফুল সবই খাওয়ার উপযোগী। তাছাড়া সজনের আছে নানা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। সজনের ...

ঘোষনাঃ