খাবারে ফরমালিন ও কেমিক্যাল মিশিয়ে গণহত্যা চালানো হচ্ছে :রাষ্ট্রপতি

                                         আল মুজাদ্দেদী২৪বিডী.কম : খাবারে ফরমালিন ও কেমিক্যাল মিশিয়ে গণহত্যা চালানো হচ্ছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, যারা ফরমালিন দিচ্ছে, কেমিক্যাল ব্যবহার করছে, সেসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বুধবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) তৃতীয় সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ফরমালিন এক ধরনের বিষ। এখন প্রতিটা খাবারে ফরমালিন মেশানো হচ্ছে। শুধু ফল নয়, শাকসবজি, মাছ-মাংস সবকিছুর মধ্যেই আজ ফরমালিন। এমনকি খাবারের গুঁড়া মশলাগুলোতেও কেমিক্যাল মেশানো হয়। তিনি বলেন, কাউকে হত্যা করলে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। কিন্তু খাবারে ফরমালিন মেশানোর কারণে হাজার হাজার মানুষ মরছে। এটা গণহত্যা। এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার।

আবদুল হামিদ বলেন, এখন সারাদেশ ক্যান্সারে ভরে গেছে। আমরা যখন ছোট ছিলাম, এত ক্যান্সার শুনতাম না। এখন ক্যান্সারে ভর্তি। কয়টা লোক ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়ে বাঁচতে পারে, আক্রান্ত প্রায় মানুষই মারা যায়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা মানুষকে মোটিভেট করো। সমাজকর্মী, রাজনীতিবিদ প্রত্যেকের সামাজিকভাবে আন্দোলন করা প্রয়োজন। সরকারকেও এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে জাতি হিসেবে আমরা পঙ্গু হয়ে যাব।

রাষ্ট্রপতি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর বুকে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নশীল একটি দেশ। দারিদ্র্য নিরসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নে বহির্বিশ্বে এখন রোল মডেল। বিশ্বে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার আট শতাংশের ওপরে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা ২০২৪ সাল নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের ওপরে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সময় এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে যাওয়ার; বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।

সমাবর্তনে স্বাগত বক্তব্য দেন শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। সমাবর্তন বক্তা ছিলেন কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম। তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২০ শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি। এবারের সমাবর্তনে মোট ৬ হাজার ৭৫০ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দেওয়া হয়।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ