ক্রোধ আর ক্ষমা মানুষের দুটি স্বভাব:আক্তার হোসেন কাবুল

                    ক্রোধ আর ক্ষমা মানুষের দুটি স্বভাব। একটা নেগেটিভ, আর একটা পজিটিভ। ক্রোধ মানুষকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়, আর ক্ষমা মানুষকে আলোর দিকে পথ দেখায়। একটাতে আল্লাহ অসন্তুষ্ট, আর একটিতে সন্তুষ্ট। ক্রোধ মানুষে মানুষে সম্পর্ক নষ্ট করে, পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনকে ছিন্ন করে। আর ক্ষমা মানুষকে উদার করে, মহৎ করে, পারস্পরিক সম্পর্ককে মজবুত করে। কাজেই কেউ আপনার সাথে অন্যায় আচরণ করে ক্ষমা চাইলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া উত্তম। অন্যায়কারী লজ্জাবশত বা দেমাগবশত ক্ষমা না চাইলেও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাকে ক্ষমা করে দেওয়াই উত্তম। এতে আল্লাহ খুশী হয়ে আপনাকেও ক্ষমা করে দিবেন। পাক কোরআনে বলা হয়েছে, وَسَارِعُواْ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي السَّرَّاء وَالضَّرَّاء وَالْكَاظِمِينَ الْغَيْظَ وَالْعَافِينَ عَنِ النَّاسِ وَاللّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা এবং জান্নাতের দিকে ছুটে যাও, যার সীমানা হচ্ছে আসমান ও জমিন, যা তৈরি করা হয়েছে পরহেজগারদের জন্য। যারা সচ্ছলতায় ও অভাবের সময় ব্যয় করে, যারা নিজেদের রাগকে সংবরণ করে আর মানুষকে ক্ষমা করে, বস্তুত আল্লাহ সৎকর্মশীলদিগকেই ভালোবাসেন।’ (সূরা ৩ আলে ইমরানঃ133- ১৩৪) রাসূলে পাক (সাঃ) তাঁর ২৩ বছরের নবুয়তী জীবনে সত্য প্রচার করতে গিয়ে কত যে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, লাঞ্চনা-গঞ্জনা, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছেন তার কোন ইয়ত্তা নেই। কিন্তু নবীজী(সাঃ) তাদের প্রতি কোন প্রতিশোধ নেননি, বরং ক্রোধ সংবরন করে ক্ষমা করে দিয়েছেন। এমনকি তাদের ক্ষমার জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলেছেন। আমার পীর কেবলা বিশ্বওলী খাজাবাবা হযরত ফরিদপুরী (কুঃ ছেঃ আঃ) ছাহেবকেও রাসূলের (সাঃ) সত্য তরিকা প্রচার করতে গিয়ে কত যে নিন্দা, অপমান, কটুকথা সহ্য করতে হয়েছে তারও কোন শেষ নেই। কিন্তু কারো উপরই তিনি ক্রুদ্ধ হননি, প্রতিশোধও নেননি। সর্বক্ষেত্রেই ক্ষমা করেছেন।
রাগ সংবরণ করে ক্ষমা করার উপকারিতা সম্পর্কে নবীজীর (সাঃ) কয়েকটি হাদীসঃ
এক, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসল্লাম বলেছেনঃ ‘ঘায়েল বা পরাভূত করতে পারাটাই বীর হওয়ার লক্ষণ নয়, বীর হল ঐ ব্যক্তি যে নিজেকে ক্রোধের সময় সংবরণ করতে পেরেছে’। [বুখারীঃ৬১১৪, মুসলিমঃ২৬০৯] দুই, এক সাহাবী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেনঃ আমাকে এমন একটি কথা বলুন যা আমার কাজে আসবে, আর তা সংক্ষেপে বলুন যাতে আমি তা আয়ত্ব করতে পারি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেনঃ রাগ করো না। সাহাবী বার বার একই প্রশ্ন করলেন আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামও একই উত্তর দিলেন। [বুখারীঃ ৬১১৬; মুসনাদের আহমাদঃ ৫/৩৪] তিন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে ক্ষমার বিনিময়ে কেবল সম্মানই বৃদ্ধি করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয় আল্লাহ তাকে উচ্চ মর‌যাদায় আসীন করেন। [ তিরমিযীঃ ২৩২৫, মুসনাদে আহমাদঃ ৪/৪৩১] চার, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে বক্তি কোন ক্রোধকে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হওয়া সত্বেও দমন করবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে সমস্ত সৃষ্টিকুলের সামনে ডেকে যে কোন হুর পছন্দ করে নেয়ার অধিকার দিবেন।” [ইবনে মাজাহ ৪১৮৬] উপসংহারে তাই বলা যায়- যে ব্যক্তি ক্রোধ সংবরণ করতে পারেন সে বহু পুরস্কারে ভূষিত হন। * রাগ সংবরনকারী সত্যিকারের বীর উপাধিতে অলংকৃত হন। * অধিক পরিমানে সওয়াবের অধিকারী হন। * আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করেন। * সর্বোপরি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করেন। আসুন, আমরা ক্রোধকে অন্তরে জিইয়ে না রেখে তা সংবরণ করি আর ভুলকারী, অন্যায়কারী বা অপরাধীকে ক্ষমা করে দেই। আমিন। —–কাবুল

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ