কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে:আমিরুল ইসলাম কাগজী

   কোভিড-১৯ এর উৎস নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি রাজ্যের বেলেভিলি শহরের মেয়র মিশি মেলহাম কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন ২০১৯ সালের ২১ নভেম্বর। আটলান্টিক সিটিতে একটা সম্মেলনে যোগ দিয়ে রাতে যখন বিছানায় যান তখন তার শরীরের ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের জ্বর।তিনি এমন অসুস্থ বোধ করছিলেন যা তিনি আগে কখনো অনুভব করেননি।ডাক্তার দেখে বললেন ফ্লু হয়েছে। কয়েক দিন পর তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন।সে সময় তিনি কোনো টেস্ট করাননি। এর দুমাস পর নিউজার্সিতে প্রথম কোভিড-১৯ সনাক্ত হয় ৪মার্চ।ততদিনে রাজ্যে ব্যাপকভাবে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে।বহুলোক মারা যাচ্ছে। তখন মেলহাম মনে করলেন তার রক্ত পরীক্ষা করা দরকার। কারন নভেম্বরের ঐ জ্বরের লক্ষন তার সন্দেহের সৃষ্টি করে। তিনি ২৯ এপ্রিল রক্ত দিলেন এবং ৩০ এপ্রিল তাকে জানানো হলো যে তার দেহে এন্টিবোডি তৈরি হয়েছে যাকিনা কোভিড-১৯ আক্রান্ত মানুষের দেহে তৈরি হয়।অর্থাৎ তিনি ২২ নভেম্বর কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছিলেন।এটা তিনি প্রেসরিলিজ দিয়ে মিডিয়াকে জানিয়েছেন। এখবরটা পাওয়া গেল চিনা কম্যুনিস্ট পার্টির মুখপত্র পিপলস ডেইলিতে। আমরা খুব স্বাভাবিক ভাবে ধরে নিতে পারি পিপলস ডেইলি এধরণের নিউজ প্রচার করে করোনার উৎস উহান থেকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমস যখন একই সময়ে একই ধরনের অনুসন্ধানি রিপোর্ট করে তখন চিন্তার খোরাক পাওয়া যায়। নিউইয়র্ক টাইমস বলছে,নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্সের রাজধানীতে প্রথম কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হন মাছ বিক্রেতা হ্যামার।কিন্তু সে সময় তাকে নিউমোনিয়ার ওষুধ প্রয়োগে সুস্থ করে তোলা হয়।পরবর্তী তে তার টেস্টে এন্টিবডি সনাক্ত হয়। হ্যামারের মাধ্যমে আক্রান্ত হন তার স্ত্রী। তার স্ত্রী চাকরি করেন দ্য গল এয়ারপোর্টের শপিং সেন্টারে।বিমান থেকে নেমে সুটকেস নিয়ে যাত্রীরা সোজা চলে যায় তার স্ত্রীর দোকানে। সেখান থেকেই তার মাধ্যমে অনেকে সংক্রামিত হতে পারে। এসব খবরে যখন পত্রিকাগুলো সরগরম তখন চিন পাল্টা তোপ দেগেছেন মার্কিন রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও করোনা ভাইরাসের উৎস উহান ল্যাব বলে যে লাগাতার অভিযোগ করে আসছিল তার একটা জবাব এলো চিনা পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে। চিন এবার জোর দিয়েই বলেছে ল্যাব নয় বাদুড় থেকেই ছড়িয়েছে করোনা ভাইরাস। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলে আসছিল যে উহান ল্যাব থেকে নয় বাদুড় থেকেই সংক্রামিত হয়েছে করোনা ভাইরাস। আর এজন্য ট্রাম্প বলে আসছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চিনের জনসংযোগ দপ্তরের ভূমিকা পালন করছে। করোনা ভাইরাসের উৎস নিয়ে চিন এবং ট্রাম্প পরস্পর বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।এই করোনা কালে চিন কোথাও সাহায্য পাঠালে ট্রাম্প বলছেন সেটা রাজনৈতিক উদারতা। চিন কোথাও মেডিক্যাল টিম পাঠালে ট্রাম্প বলছেন সেটা ভূ-রাজনৈতিক সম্প্রসারণ। চিন কোথাও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠালে ট্রাম্প বলছেন সেটা মাস্ক কূটনীতি।চিন বলছে ট্রাম্পের এই হিনমানসিকতা এবং উদ্দেশ্যমুলক প্রচারণা সত্যি বিষ্ময়কর। ট্রাম্প অবশ্য হাল ছাড়েননি।তিনি বলেছেন তাঁর গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে, একদিন তিনি প্রমাণ করে ছাড়বেন যে,উহানের ল্যাব থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। তবে ট্রাম্পের মাথায় রাখতে হবে চিন কিন্তু ইরাক নয় যে,সাদ্দামকে বেধে জীবাণু অস্ত্র অনুসন্ধানের নামে যেমন সেদেশটাকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছিল এখানে সেটা সম্ভব নয়।চিন এখনো কোনো সংস্থাকে উহানে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি।ফলে উহান ল্যাবে কী তৈরি হচ্ছে তা বিশ্ববাসীর কাছে অজ্ঞাত।
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ