কুমিল্লায় নতুন কিছু করা কঠিন:আসিফ আকবর

                              Image may contain: 2 people, people sitting                                                কুমিল্লায় নতুন কিছু করা কঠিন। একটা সময় কুমিল্লা ছিল সবচেয়ে সিভিলাইজড সাজানো গোছানো শহর। সবদিক থেকেই কুমিল্লা দেশের সেরা শহরই ছিল। ছোট বেলায় দেখা শহরটি এখন আর নেই। পুরনো বাসিন্দারা মাইগ্রেট করেছেন। জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে, অপরিকল্পিত নগরায়নসহ বিভিন্ন কারনে জৌলুশ হারিয়েছে প্রানের কুমিল্লা। সময়ের বিবর্তনে এমন হওয়াটা হয়তো স্বাভাবিক। তবে শহরের স্কুলগুলো দিনদিন ডেভেলপ করেছে এটা আশার বিষয়। শহরের প্রাচীন পত্রিকা বলতে সাপ্তাহিক আমোদ আর দৈনিক রুপসী বাংলাই ছিল জনপ্রিয়। এখন মিডিয়া ডেভেলপ করেছে, দেশে লিডিং সাংবাদিকতায় কুমিল্লার সন্তানরা অবদান রেখে যাচ্ছেন সদর্পে। শহরেও এখন অনেক স্থানীয় পত্রিকা রয়েছে। সবার প্রতি সম্মান রেখেই কুমিল্লার কাগজের কথা বলতে হয়। আমি সাধারনত এই সেক্টরটা নিয়ে লিখিনা কারন সবার সাথেই ভালবাসার সম্পর্ক রয়েছে।

কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়। আমার দেখা একজন ডায়নামিক সাংবাদিক। বহু কষ্ট ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে তিনি তার পত্রিকাকে স্থানীয়ভাবে টপে নিয়ে আসতে পেরেছেন। তার মেধা অধ্যাবসায় একাগ্রতার ফসল কুমিল্লার কাগজ। একই সাথে তিনি কালের কন্ঠ এবং চ্যানেল আইয়ের কুমিল্লা প্রতিনিধিও বটে। আমাদের দুজনের সম্পর্ক শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তর্কের মধ্যেই আছে। তিনি প্রতিদিন নিজেকে ডেভেলপ করে আজ শহরের একজন গ্রহনযোগ্য জার্নালিস্ট হিসেবে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছেন। ইচ্ছে করলেই ঢাকায় ক্যারিয়ার গড়তে পারতেন। বিদেশে গিয়েও এ পেশায় শাইন করতে পারতেন। তাকে নিয়ে শহরে নিন্দুকেরও অভাব নেই। সবকিছু মাথায় নিয়েই তিনি আটকে আছেন কুমিল্লা প্রেমে, এ ব্যাপারটা আমার খুব ভাল লেগেছে। একদিন আড্ডায় তাকে বলেছিলাম কুমিল্লার মানুষকে কখনোই টাকা খরচ করে আমাকে দেখতে হবেনা।এই কথা ক্যাশ করে তিনি বহুবার বিভিন্ন উসিলায় কুমিল্লার মানুষের সামনে আমাকে গান গাইয়েছেন। ব্যক্তিগত ভাবে হৃদয় সাহেব আমার একজন শুভাকাঙ্খী, আমাদের ঝগড়া লেগে গেলেও কুমিল্লার ছেলে হিসেবে সবসময় আমাকে সুপরামর্শ দিয়েছেন।

এই করোনা কালে আমি লোকটাকে অন্যভাবে চিনলাম। ইদানীং কুমিল্লা কম গেলেও প্রানের শহরের খবরাখবর সবসময় রাখি। এই লোকটা দিনরাত এক করে কুমিল্লাবাসীকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে সবাই নিজের জীবনের শঙ্কায় স্বন্ত্রস্ত, তিনি সেখানে অকুতোভয় একজন ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমি রেগুলার তার পোষ্ট দেখি। মানুষের উদ্বেগ কাটানোর জন্য তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন সাধ্যমত। কারো সহযোগীতায় শহরে ফ্রি এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করা থেকে শুরু করে হসপিটাল রক্ত প্লাজমা ম্যানেজসহ সর্বক্ষেত্রে তার বিচরন আমাকে অবাক করেছে। আবুল কাশেম হৃদয়কে প্রতীকী রেখে আমি দেশের সব ফ্রন্টলাইন সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। মানুষটা অনেক কষ্ট করে নিজেকে একটা অবস্থানে এনেই ক্ষান্ত হননি। পড়াশোনার মাধ্যমে কুমিল্লার সঠিক ইতিহাস ঐতিহ্যকেও আত্মস্থ্য করেছেন।এমন নিবেদিতপ্রান কুমিল্লার নির্ভীক এই সন্তানকে ছোট পোষ্টের মাধ্যমে স্রেফ একটা থ্যাংক ইউ দিতে চাই। থ্যাংকইউ মিস্টার আবুল কাশেম হৃদয়। আপনার সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করি। শুভকামনা সবসময়… ভালবাসা অবিরাম… ,ছবি- হুমায়ন কবীর জীবন,কুমিল্লার কাগজ …,


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ