কচুয়ায় সুরমা বাসে এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা

         ওমর ফারুক সাইম: কচুয়ায় সুরমা বাসে এক কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক মোল্লাকে উত্তম মধ্যম দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। ৪ নভেম্বর বুধবার ঢাকা-কচুয়া সড়কের সাচার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।   এ ঘটনায় কচুয়া উপজেলাসহ সুরমা বাসে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্য দিকে সুরমা বাসের ওই ঘটনা এখন স্থানীয়দের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, গত বুধবার সকালে কচুয়া উপজেলার তেতৈয়া গ্রামের অধিবাসী মো. হারুনর রশিদ মোল্লা তার নাতনি (১৫) কে মিরপুর-১ শিক্ষাবোর্ড স্কুলের নবম শ্রেণীতে পড়–য়া শিক্ষার্থীকে ঢাকায় পৌছে দিতে কচুয়া বিশ্বরোড সুরমা কাউন্টারে আসেন।

এসময় কাকতালীয়ভাবে বাসে থাকা ঢাকা যাওয়ার যাত্রী একই গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক মোল্লা দেখতে পেয়ে ওই কিশোরীকে তার পাশে বসান। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ফারুক মোল্লা তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তার প্রস্তাবে রাজি হলে তাকে (কিশোরীকে) রাজ রাণী করে ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকব, এতে রাজি হলে চিটাগাং রোডে নেমে যাওয়ার প্রস্তাব দেন ওই কিশোরীকে। এ বলে কিশোরীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে ফারুক মোল্লা। এসময় ওই কিশোরী ডাক চিৎকার দিলে সুরমা বাসে থাকা যাত্রীরা আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক মোল্লাকে উত্তম মধ্যম দিয়ে সাচারে বাস থেকে নামিয়ে দেন।

তবে ওই কিশোরীকে শ্লীলতাহানির কথা অস্বীকার করেছেন তেতৈয়া গ্রামের অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ফারুক মোল্লা। তিনি বলেন, ওই কিশোরী আমার স্ত্রী সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করায় আমি তাকে ধমক দিয়েছি। তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়ার বিষয়টি ভিত্তিহীন। আমাকে সুরমা বাসে কেউ মারধর করেনি আমি ওই বাসে করেই বুধবার ঢাকায় গিয়েছি এবং বর্তমানে ঢাকায় আছি।

ঢাকা মেট্রো-ব-৬২৯৫ সুরমা বাস চালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, বুধবার সকালে আমরা কচুয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। পতিমধ্যে সাচার এলাকায় একটি মেয়েকে অপর এক যাত্রী অশালীন কথা বার্তা বললে মেয়েটি কান্নাকাটি শুরু করে। পরে উত্তেজিত যাত্রীরা তাকে বাস থেকে নামিয়ে দেয়।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক বাসযাত্রীরা জানান, বাসে একটি কিশোরীকে অশ্লীল কথা বলায় ও গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টায় ফারুক মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে তাকে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছে।                                                                             

মেয়ের নানা মো. হারুন মোল্লা জানান, ঘটনার ২দিন পেরিয়ে গেলেও ফারুক মোল্লা এখনো আমাকে কিছু বলেনি বরং বিষয়টি সমাধান না করে উল্টো আমাদের বিভিন্ন ভাবে হুমকী-ধমকী দিচ্ছে। সে দ্রুত ক্ষমা প্রার্থনা না করলে আমি সহসায় মামহানী মামলা করবো অভিযুক্ত ফারুক মোল্লার বিরুদ্ধে।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ