আমার লেখক জীবন শুরুর ভাবনা :শিহাব উদ্দিন ভু্ঁইয়া

                                                                                                                                                      অনেক বছর আগের কথা। খুব সম্ভব সালটি ছিল ১৯৯৬ ইংরেজি। বিষয়ঃ বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য- জেলাওয়ারি ম্যাপ আর গুণী মানুষের খোঁজ খবর নিয়ে একসাথে একটি বই করা। এমন সব তথ্যমিলিয়ে তখন দেশে ওরকম একটি ভালো বই ছিল না বললেই চলে।অধিকাংশ জেলার লাইব্রেরি গুলোতে তখন এমন তথ্য পাওয়াও ছিল দুরহ বিষয়! কিন্তু আমার তখন চাই-ই চাই এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি…। কনকনে শীতের রাতে যাত্রা শুরু! নৈশকোচে হিমেল ঠাণ্ডা হাওয়া লাগতে শুরু করে গাঁয়ে।শীতের ঘনকুয়াশার চাঁদরে ঢেকে যায় সড়ক-মহাসড়ক।দূরে কোথাও ডাহুক আর হুতুম পেঁচার ডাকাডাকি…! ক্ষীপ্র গতিতে বাস চলছে গন্তব্যে পথে…। চোখে-মুখে স্বপ্ন আমার … অন্ধকার সরণী ধরে শেষ হবে কবে এই পথচলার … ভাবনা গুলো ঘুমোতে দেয় না সারা রাত! প্রায় দু’ই বছর মিলে সেই অসীম সাহসী কিন্ত ভীষণ কষ্টের কাজটি একটা সময় সহজ হলেও বই প্রকাশ হতে সময় লাগে আরো বছর খানেক। তার পরের বিষয় … অনেক দীর্ঘ ইতিহাস।যেগুলো মনে হলে কষ্টগুলো উঁকি মেরে ডানা ঝাপ্টায় আহত পাখির মতো।আকাশে কালো পথিবীর দিকে তাঁকিয়ে দেখি- সাদা চাঁদ ধবধবে সাদা, জ্যোৎস্নায় চারিদিক আলোকময় কিন্তু একি! সাদা চাদের গায়ে ওগুলো কিসের দাগ ছোপছোপ কালো দাগগুলো কিসের? ওগুলো কি চাদের কলংক? না শুভ্র চাদের গায়ে কলংক দিতে নেই! ওগুলো চাদের টুকরো টুকরো কস্ট…! একসাথে জমা হয়ে সাদা চাঁদের গায়ে ধূসর স্মৃতি। আমার লেখক জীবনের শুরুটা কিন্তু সেই বই দিয়েই। তারপর যদিও আর থেমে থাকতে হয়নি। কিন্তু প্রথম দিকের অভিজ্ঞতা গুলো ছিল ভয়ংকর রকমের খারাপ।তখন ছিলাম প্রচণ্ড রকম আত্মবিশ্বাসী মানুষ। জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতাম আর ছটফট করতাম বাস্তবায়ন করতে! প্রতি দিন মাস বছর জুড়েই নতুন নতুন স্বপ্ন আর বাস্তবায়ন…। জীবনের মূল্যবান ২০ টি বছর মানে আমার তারুণ্যের সাহসী সময় গুলো গোছানোর আগেই কীকরে যে চলে গেছে ভাবনায় ঘুরপাক খায়- অতসব এটাসেটা ভেবে! উত্তর মিলে না ! হিসেবের যোগফল কেবলমাত্র শূন্যও বলা যায়! লেখক হতে গিয়ে প্রকাশক হয়ে যাওয়ারও বিচিত্র রকম গল্প রয়েছে স্মৃতিপটে। আছে আঁকাবাকা কতো কখার ফুলঝুড়ি। সেও অনেক দীর্ঘ কথামালা …। ছোটো প্রকাশক, বড়ো প্রকাশক! ভালো বই, মন্দ বই আরো কতো কী…! যদিও এখন আর এসব নিয়ে তেমন একটা ভাবতে হয় না। এখন ভাবনা আরো ব্যপক তবে ভাবনা গুলো অন্যজায়গায়! কিছু ভদ্ররূপি ভন্ডসাধু দেখি; মুখোশধারি এই মানুষ গুলো প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেই অমনি মুখ ঘুরিয়ে নেয়…। আমি নির্বাক হয়ে দেখি তাদের মুখ! যত বেশি এমন দেখি বিস্মৃতি গুলো আর এলোমেলো ভাবনা মন থেকে সরিয়ে ফেলতে চাই, কিন্ত তত বেশি করে এগুলো মনের মধ্যে আরো ভালোকরে আসন পেতে বসে। সৃজনশীল প্রকাশক হয়ে প্রকাশক সমিতির বইমেলার দায়িত্ব নেয়া… আমার জন্য কাল হয়ে দাড়ায় মূর্খ কিছু লোকের অসম প্রতিযোগিতায়।দেশে-বিদেশে বইমেলার আয়োজন করা, এগুলো আমার লেখক জীবন কিছুটা বাঁধাগ্রস্ত হলেও এই দীর্ঘ সময়ে শিখেছি অনেক… দেখেছি কত কী! মানুষ গুলো কীকরে অমানুষ হয়! এসব নানান অভিজ্ঞতার আলোকে বেশ কিছু বই হতে পারে! সুন্দরের সাথে কত বৈরী প্রতিকূল ধ্বংসাত্মক জীবনের গল্পও দেখেছি যা ভুল নাকী সত্য হিসাব মিলাতে বসিনি এখনো! যা শিখেছি অনেক…! বাকি জীবন আর না শিখলেও হয়তোবা হবে। এসব এখন পথে প্রান্তরের ধূসর রঙের স্মৃতি। একটি কথাই ভাবনায় রাখি– “সবার ওপর মানুষ সত্য তাঁহার ওপরে নাই…” সৃজনশীল বই আর তথ্যের দুনিয়া এসব কিছুই এখন হাতের মুঠোয়। চাইলেই পৃথিবীর সব তথ্য-উপাত্ত আপনার- আমার সবার কাছে! তবে সবই কী কাছে…? কিছু তথ্য দূরে থাকে বহুদূরে…! সৃষ্টি আর স্রষ্টা এমনই বিষয়। এমন তথ্য আপনার অবচেতন মনেই কেবল রয়েছে বহু বছর আগে থেকে…! খুঁজতে থাকুন, নিখুঁত ভাবে। আপনার ভেতরে থাকা নিগুর জ্ঞান দিয়ে। তবে সাধারণ সব তথ্য বা গুরত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে পেতে এখন আর জেলায় জেলায় লাইব্রেরি খুঁজতে হবে না। একযোগে যেতেও হবে না ৬৪ জেলার লাইব্রেরি গুলোতে। জীবন কতো সহজ! সরলীকরণে শুধু পৃথীবির মানুষ গুলো জটিল। মহান আল্লাহ আমাদের সবার জন্য সরল পথ দেখিয়ে দিক।


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ