আমাকে অনেকেই খুব রাগী মনে করে :আসিফ আকবর

                                                                              আমাকে অনেকেই খুব রাগী মনে করে। যদি জিজ্ঞেস করি কে কে রাগতে দেখেছেন তাহলে স্বাক্ষী পাওয়া মুশকিল। আমার রাগ যে দেখেছে সবচেয়ে বেশী ভালবাসা হয় সে পেয়েছে নয় আমি কষ্ট পেয়েছি। আমি রাগী নই, একটু একরোখা। মাথার ভিতর যেন জ্ন্ম থেকেই সব প্রোগ্রামিং করা আমার। নিজের সিদ্ধান্তের বাইরে জিরো শতাংশও নড়তে চাইনা। আমি বুঝতে পারি অনেক কিছুই। কে হাওয়া দিচ্ছে আর কে ভালবাসছে, কে সত্য বলছে আর কে সুবিধা নিতেই আমার কাছে এসেছে। আমার জীবন বয়ে চলছে একই ধারায়। সেজো ভাই ওয়ার্ন করেছেন আগেই- তিনি বলেছেন তোমাকেউ বুঝবে না, এমনই একটা চরিত্র তুমি। সুতরাং এসব নিয়ে কষ্ট পেওনা।
একটা সময় খুব মারপিট করতাম রেগে গেলে। ইন্ডাষ্ট্রীতে এই বাজে রেকর্ডটা আমার আছে। যত ভাবি বিনয়ী হবো ততোই আমাকে নাড়তে থাকে। এখন আর ক্ষেপিনা, শান্ত থাকি আর হাসি। এই সূযোগে পাশে থাকা ভাই বন্ধুরা মোটামুটি চোটপাট নেন আমার সঙ্গে। বহুবিধ যন্ত্রনায় আগের সময়গুলোতে খুব হাঁপিয়ে উঠতাম। আমার সিদ্ধান্তই সবসময় চূড়ান্ত ছিল। এতে লাভই হয়েছে সবার শুধু অপমানিত হয়েছি আমি। ইদানীং ফেসবুকেও আর উত্তেজিত পোষ্ট দেইনা। কোন ভয় কিংবা আপোষ রফায় নয়, সবার মতামত শোনার ধৈর্য়্য নিয়ে বসে থাকি। এই যেমন কপিরাইট অফিস, একদিন গিয়েই বুঝেছি এই তৈলাক্ত জায়গাটি আমার নয়। তাদের সাথে চলতে গেলে আবার পুরনো ফাইল ওপেন হয়ে যাবে, সংঘাতে জড়িয়ে যাব। তাই ভাবলাম সবার কপিরাইট ইস্যু শেষ হলে তারপর আমি যাবো। এতো ধৈর্য্য আমার আছে আমি সেটা জানতামই না।
যাদের সুযোগ দিয়েছি তারা বকছে একদিকে, আরেকপক্ষ কথায় কথায় খোঁটা দেয় কেন তাদের সুযোগ দিলাম। নানান সঙ্ঘের মাধ্যমে বানরের পিঠাভাগ উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। অনেক কিছু বলতে গিয়েও আর বলিনা। বড়দের সিদ্ধান্তের উপর সব ছেড়ে দিয়েছি। তারা যখন সফল হবেন তখন ইন্ডাস্ট্রীতে আন্তরিকতা শব্দটা আর থাকবেনা। এমনিতেই আপাতত মুখ দেখাদেখি প্রায় বন্ধ। মাঝে মাঝে ফেসবুকে হাস্যেজ্জ্বল ছবি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করছেন হালের কিছু সঙ্গীতনেতা। দেখতে ভাল লাগে, অনেক লাইক দেই। সৃষ্টিশীল সঙ্ঘগুলোর ভিতর গুপ্তচর ঢুকে গেছে, পরস্পর নজরদারী চলছে। অনাসৃষ্টি শুরু হলে বড়রা পালিয়ে যাবেন ধ্যেত্তেরি বলে। ইন্ডাষ্ট্রীর অপ্রয়োজনীয় উৎপাতগুলো অলরেডী ফ্রন্টলাইনে আসা শুরু করেছে। ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি বলে শান্ত আছি, চুপচাপ নিজের কাজ করছি। মান অপমানের খেলা শুরু হলো বলে। কোথায় যে হারিয়ে গেল সৃষ্টিশীলতার সেই দিনগুলো জানিনা, তবে আর কখনো ফিরে আসবেনা এটা জানি।আমি কথা শুনি শান্ত থাকি আর হাসি। ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরির মত মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছি প্রয়োজনের সময় লাভা উদগীরনের জন্য। অবশ্যই ইনসাফ হবে আর সেই সঙ্গে শাস্তি দেয়া হবে শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী মোনাফেকদের।
ভালবাসা অবিরাম… ছবি- আলী ইমাম সুমন

 


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ