অমর একুশে বইমেলার ডায়েরি-৩:রেজা ঘটক

                                                                                                অমর একুশে গ্রন্থমেলার আজ তৃতীয় দিনে বইমেলায় যাবার পথে চারুকলার সামনে পেয়ে যাই ন্যান্সি আপা আর রিন্টু ভাইকে। ন্যান্সি আপা কইলো, তুই আমার এক্সিবিশন না দেখেই বইমেলায় যাবি? জিগাইলাম- তোমার কীসের এক্সিবিশন? কোথায়? ন্যান্সি আপা কইলো- জয়নুল গ্যালারিতে। জয়নুল গ্যালারিতে ঢুকে দেখি সত্যি সত্যি এলাহি কাণ্ড! এর আগে আমি জানতাম, ন্যান্সি আপা খুব ভালো ছবি তোলেন। ঢাকা ও কলকাতায় আপু’র বেশ কয়েকটি ফটো এক্সবিশন হয়েছে। ফটোগ্রাফিতে বেশ কিছু পুরস্কারও রোজিনা পারভীন ন্যন্সি আপা পেয়েছেন। অবসরে শখ করে ইদানিং আপু ছবিও আঁকেন। এবার ঢাকা ওয়াটারকালার একাডেমি আয়োজিত ‘জলছবি’ শিরোনামে ওয়াটার কালার গ্রুপ এক্সিবিশন হচ্ছে এখন চারুকলার জয়নুল গ্যালারিতে। এক ঝাঁক অপেশাদার অথচ শখ করে ছবি আঁকেন, এমন তেঁইশ জন চিত্রশিল্পী’র গ্রুপ এক্সিবিশন শুরু হয়েছে গতকাল, চলবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত। ইচ্ছে করলে আপনিও বইমেলায় যাবার পথে জয়নুল গ্যালারি ঘুরে যেতে পারেন। বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সবার জন্য গ্যালারি উন্মুক্ত। জয়নুল গ্যালারি ঘুরে রিন্টু ভাই আর আমি বইমেলায় ঢুকেই রমনা কালী মন্দিরে গিয়ে চা খেলুম। সম্প্রতি রিন্টু ভাইকে সৌদি আরবের জেদ্দায় পোস্টি দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’বছর রিন্টু ভাইয়ের সঙ্গ আমরা খুবই মিস করব। তাই রিন্টু ভাই’র সাথে আজকে বইমেলায় ঘুরে ঘুরে আড্ডা দিলাম সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। বইমেলায় আজ দেখা হয়েছে কানাডা প্রবাসী কবি ফেরদৌস নাহার আপু’র সাথে। কথাশিল্পী জাকির (জাকির তালুকদার) ভাই’র সাথে। কথাসাহিত্যিক সিরাজুল ইসলাম মুনির ভাই’র সাথে। তারপর বইমেলায় এক চক্কর ঘুরে লিটলম্যাগ কর্নারে আসতেই দেখা হলো শিল্পী চারু পিন্টু গংদের সাথে। এরপর আমাদের সাথে যোগ দিলেন কবি ও চলচ্চিত্র নির্মাতা টোকন ঠাকুর ও শিল্পী-লেখক শেখ শাহেদ আলী ভাই। তারপর দলবল নিয়ে আমরা আড্ডায় মেতে উঠি কবি ও নির্মাতা দিলদার হোসেন, সাংবাদিক-লেখক মাহমুদ হাফিজ, কবি পিয়াস মজিদ ও তানভীর-নওশীন গংদের সাথে। ছুটির দিন না হলেও বইমেলা কিন্তু জমে উঠেছে। লিটলম্যাগ কর্নারও এবার আড্ডায় মুখোরিত। লিটলম্যাগ কর্নারের উত্তর-পশ্চিম কর্নারে একটি বসার জায়গা খুবই প্রয়োজন। আশা করি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ এই চত্বরে দ্রুতই বসার ব্যবস্থা তৈরি করবে। তাহলেই সারাক্ষণ কবি-লেখক-লিটলম্যাগ সম্পাদকদের আড্ডায় আড্ডায় লিটলম্যাগ কর্নার জমে থাকবে। এছাড়া বইমেলায় মোড়ে মোড়ে পর্যাপ্ত খাবার পানি এবং চায়ের স্টল থাকাটা খুব জরুরী। আমাদের আড্ডায় আজ বেশিরভাগ সময় সবার নানান কিসিমের স্মৃতিচারণে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন টগবগে। বইমেলায় আমরা কয়েক বছর ধরে হক ভাইকে খুব মিস করছি। বিউটি বোর্ডিং, শামসুর রাহমান, নির্মলেন্দু গুণ, আবুল হাসান, হুমায়ুন আজাদ, শহীদ কাদরী, এঁরা সবাই আমাদের আড্ডায় নানান বিশ্লেষণে প্রায়ই চলে আসেন। আড্ডার এক ফাঁকে আজ কবি মৃগাঙ্ক সিংহের সাথে মোলাকাত হয়েছে। দূর থেকে দেখলাম কবি মারুজুক রাসেল বিশাল গ্যাং নিয়ে বায়ান্ন’র সামনে আড্ডা দিচ্ছেন। দেখেই ভালো লাগছে, আহা! বইমেলায় বায়ান্ন থেকে এসেছে কবি মারজুক রাসেলের কবিতার বই                                                                                                                                                                                                                     ‘দেহবণ্টনবিষয়ক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর’। প্রথমা থেকে খুব শিঘ্রই আসছে কবি টোকন ঠাকুরের ‘বুদবুদ পর্যায়ের কবিতা’। প্রথমা থেকে ইতোমধ্যেই মেলায় এসেছে কবি আলতাফ শাহনেওয়াজের দীর্ঘ কবিতা ‘সামান্য দেখার অন্ধকারে’। কথাপ্রকাশ থেকে এসেছে গিরীশ গৈরিকের ‘মেডিটেশনগুচ্ছ’। বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলাকে এখন রীতিমত আন্তর্জাতিক বইমেলার সাথে তুলনা করা যায়। মেলার পরিসর, মেলায় আগত বইপ্রেমী দর্শক, মেলায় আসা নতুন বই সবই প্রতিবছর বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় মানসম্পন্ন বই প্রকাশের হার মোটেও সন্তোষজনক নয়। লেখালেখি যে একটা সাধনার ব্যাপার, সেই ব্যাপারে ন্যূনতম পড়াশোনা না করেই, কোনো ধরনের প্রস্তুতি না নিয়েই বা লিখে হাত পাকানোর কাজটির বদলে রাতারাতি ব্যাঙের ছাতার মত প্রকাশিত হচ্ছে গাদাগাদা অখাদ্য বই। একদিন এ জাতিকে নিশ্চয়ই গাছ ধ্বংস করার জন্য ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে! বইমেলায় আসুন। দেখেশুনে ভালো বই বাছাই করে কিনুন। অখাদ্য বই কিনে নিজে ঠকবেন না। আগামী প্রজন্মের পড়ুয়াদেরও ঠকাবেন না। সবাইকে অমর একুশের শুভেচ্ছা। -বইমেলা থেকে ফিরে রেজা ঘটক কথাসিহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা


মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

শিক্ষাঙ্গন

খেলাধুলা

লাইফস্টাইল

ঘোষনাঃ